না ফেরার দেশে চলে গেলেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী

December 31, 2019,

স্টাফ রিপোর্টার॥  মৌলভীবাজারের কৃতি সন্তান প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী আর নেই। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

পেশাদার ওই কূটনীতিক দিল্লিতে ৫ বছর হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন শেষে গত ১৯শে ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরেন। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে আচমকা তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন। সৈয়দ আলীর মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকার, রাজনৈতিক দল এবং  বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের তরফে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে গিয়ে মোয়াজ্জেম আলীর পরিবারকে স্বান্তনা দেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তাৎক্ষণিক এক টুইট বার্তায় মোয়াজ্জেম আলীর বিদেহী আত্মার শান্তিকামনা করেছেন এবং তার স্ত্রী ও শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

২০০১ সালে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন শেষে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যান মোয়াজ্জেম আলী। এরপর থেকে অবসর জীবন যাপন করছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার তাকে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে চুক্তিভিত্তিক (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায়) নিয়োগ দেয়। চলতি বছরের সমাপনীতে  তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তিনি দেশে ফিরে আসেন। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে কমর্রত থাকা অবস্থায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানান এবং স্বাধীন বাংলাদেশের আলাদা দূতাবাস খোলেন। ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি আদায়ে মোয়াজ্জেম আলীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি তখন প্যারিসে ছিলেন।

তার আগে তিনি ভুটান, ইরানেও রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ওয়াশিংটন, ওয়ারশো, জেদ্দা ও দিল্লিস্থ বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। মোয়াজ্জেম আলী মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্টিকুলেশন পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে সন্তান রেখে গেছেন। সন্তানদ্বয় স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

জানাজা ও দাফন কাল: বিদেশে কর্মরত সন্তানের দেশে ফেরার অপেক্ষায় প্রয়াত কূটনীতিক সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর জানাজা এবং দাফন ১লা জানুয়ারিতে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মরহুমের পরিবার। জানাজার আগ পর্যন্ত লাশ হিমঘরে থাকবে। সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর স্বজন ফাহিম মানবজমিনকে সোমবার বিকালে জানান, পারিবারিক সিদ্ধান্ত মতে, ১লা জানুয়ারি বুধবার সকাল ১০টায় তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা হয় রমনাস্থ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা’র মাঠে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় সেগুনবাগিচায় তার লাশ নেয়া হচ্ছে না। পেশাদার কূটনীতিকসহ তার সহকর্মী, স্বজন-শুভানুধ্যায়ীরা অতিথি ভবন পদ্মা’র মাঠেই তাকে শেষ বিদায় জানাবেন। এরপর বাদ জোহর সর্বস্তরের মানুষদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে গুলশান আজাদ মসজিদে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে বনানী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হবে।

পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৩রা জানুয়ারি শুক্রবার বাদ আছর গুলশান আজাদ মসজিদে মরহুমের কুলখানি হবে। উল্লেখ্য, ১৯৪৪ সালে সিলেটের মৌলভীবাজারে জন্ম নেয়া সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর লাশ সিলেট বা মৌলভীবাজারে নেয়া হচ্ছে না। পরিবারের তরফে মরহুমের বন্ধু-সুহৃদদের ঢাকায় অনুষ্ঠেয় দু’টি জানাজা এবং কুলখানিতে অংশ নিয়ে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরার কামনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com