শ্রীমঙ্গল খাদ্য অধিদপ্তরের ৫ বস্তা সরকারী চাল পাচারের দায়ে ৩ জনকে আসামী করে মামলা

April 16, 2020,

সাইফুল ইসলাম॥ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নে খাদ্য অধিদপ্তরের সরকারি চাল পাচারের দায়ে তিনজনের থানায় মামলা রুজু হয়েছে।

১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীমঙ্গল থানায় তিনজনকে আসামীকে করে মামলা রুজু করে থানা পুলিশ। মামলার গ্রেফতারকৃত দুই আসামীকে মৌলভীবাজার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আটক হওয়া মামলার আসামীরা হলেন ভৈরববাজারের হুদারপাহাড় এলাকার আশিক মিয়া (৫০) ও একই ইউনিয়নের নয়নশ্রী গ্রামের ইসলাম মিয়া (৪০)। তবে মামলার স্বার্থে অপর আসামীর নাম প্রকাশ চাচ্ছেন না মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

শ্রীমঙ্গল থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, চাল পাচার ঘটনায় তিনজনকে আসামীকে থানায় মামলা রুজু হয়েছে। তারমধ্যে আটক হওয়া দুইজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে মৌলভীবাজার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি একজনের নাম তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা যাচ্ছে না। সেখানে বড় একটা চক্র জড়িত,তাই নাম প্রকাশ এখন না করাই ভালো বলে তিনি জানান।

মঙ্গলবার গভীররাতে এলাকাবাসীর তথ্যের ভিত্তিতে সরকারী চাল পাচারে জড়িত আশিককে আটক করা হয়। বুধবার ১৫ এপ্রিল দুপুরে উপজেলার ভৈরববাজার এলাকা থেকে ইসলাম মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চাল উদ্ধার করা হয়।আটককৃত  দুজনেই কালাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

আটককৃত আশিক ওই  ইউনিয়নের ভৈরববাজার সংলগ্ন হুদারপাহাড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার দাদন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আশিকের বাড়িতে ১০টাকা কেজি সরকারি চাল মজুদ করে রাখা ছিল। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার সময় আশিকের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আশিককে আটকের পর তাকে উদ্ধার এবং চালের বস্তা চুরি সংক্রান্ত বিষয়টি ধামাচাপা দেবার চেষ্টা চালায় একটি প্রভাবশালী মহল। বুধবার বিকালে গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি জেনে গেলে তাদের এমন উদ্দেশ্য ভেস্তে যায়।

পাচারকৃত চাল ভৈরব বাজারের কলা ব্যবসায়ী হেকিম খা, সিএনজি চালক শান্ত রঞ্জন দাশ ও গ্রেফতারকৃত আশিক মিয়ার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।

এঘটনায় পুলিশ ভৈরবগঞ্জ বাজারে অবস্থিত শাহজালাল ম্যানশনের বেশ কয়েকটি বন্ধ দোকানের তালা খুলে অভিযান চালালে সেখানের একটি দোকান থেকে খাদ্যসহায়তার বেশ কয়েকটি খালি বস্তা উদ্ধার করলেও কোন চাল পাওয়া যায়নি বলে দ্বায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

স্থাণীয় এলাকার বাসিন্দা হেকিম খা জানান, পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া আশিক মিয়ার কাছ থেকে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ১৫০০ টাকা দামে দুই বস্তা ৩০ কেজি ওজনের ৬০ কেজি চাল ক্রয় করেন।’

এদিকে, পুলিশের উপস্থিতি ও পুলিশের অভিযান হবে এমন তথ্য আগেভাগেই জানতে পেরে আশিকের সংশ্লিষ্টরা ২২ বস্তা চাল সরিয়ে নেয়। আশিককে আটক করে থানায় নেয়ার পরপর চালগুলো সরিয়ে ফেলে। পরবর্তীতে ৫ বস্তা ১০ টাকার মূল্যের সরকারি চাল পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

উপজেলার কালাপুরের এলাকাবাসী তুহিন চৌধুরী ও মো. জাকারিয়া (বক্তব্য রের্কড) বলেন, ঘটনাটি শুনে আমিও গিয়েছিলাম ভৈরববাজারে। আসলে কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছে না। তারপরও যা জানতে পারলাম তা হলো, সিএনজি অটোরিক্সা করে ১০ টাকা দামের সরকারি ত্রাণের চাল বাজারে নিয়ে যাবার সময় সিএনজি থেকে পড়ে যায়। তখন  উৎসুক লোকজন সিএনজি চালককে জিজ্ঞেস করে জানতে পারে এগুলো কালাপুরের আশিক মিয়া এবং ইসলাম মিয়ার চাল। তারা আরও জানান,এই দু,জনেই ইউপি চেয়ারম্যানের ঘনিষ্টভাজন।’

‘কালাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মজুল বলেন, চাল পাচার ঘটনা আমার জানা নেই। যদিও ইউনিয়নের পরিষদ অথবা ডিলারের মাধ্যমে পাচার সম্ভাবনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আপনি বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না। নইলে  মামলা দিয়ে দিব।’

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুছ ছালেক বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের চাল অবৈধভাবে মজুদ রাখার অপরাধে ইতোমধ্যে আশিক ও ইসলাম গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের কাছ থেকে ৫ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়। তবে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে, মূল আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com