কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের নির্দেশ দিলেন শ্রীমঙ্গলের ইউএনও নজরুল ইসলাম

তোফায়েল পাপ্পু॥ শ্রীমঙ্গল শহরতলীর পৌরসভার অন্তর্ভূক্ত কালিঘাট সড়ক এলাকায় ৯জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১জন মারা গেছেন। উপজেলার অন্যান্য এলাকার চেয়ে এই এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী হওয়ায় সোমবার ১৫ জুন জেলা সিভিল সার্জন রেড জোন ঘোষণা দেন। পরে বুধবার ১৭ জুন উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক যানবাহনসহ মানুষ যাতায়াতের কালীঘাট মূল সড়কে বাঁশ ও লাল কাপড় দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছিলো।
ইতোমধ্যে ওই এলাকার ৮জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ৫জন স¤পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। অপর ৩জনও সুস্থতার দিকে রয়েছে। শুক্রবার ১৯ জুন বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম রাস্তার ব্যারিকেড উঠিয়ে দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক করে দেন। এসময় তিনি হ্যান্ড মাইকে স্থানীয় জনসাধারনের সম্মুখে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে চলাচলের নির্দেশনাও দেন। তিনি বলেন, কখন কার মাধ্যমে করোনা সংক্রমন ছড়ায় তা কেউ বলতে পারে না। তাই সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাক্স ব্যবহার করতে হবে। শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। কেউ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে জরিমানা করা হবে। তিনি আরও বলেন বিকাল ৪টার পর ফার্মেসী ছাড়া কোন ধরনের দোকানপাট কোলা রাখা চলবে না। পরে কালিঘাট সড়ক এলাকায় ৩জনের বাড়ি ও মুসলিমবাগ এলাকার ১জনের বাড়িতে প্রবেশের গলি রাস্তা এবং তাদের বাড়ি ও তার আশপাশ লাল কাপড় দিয়ে চিহ্নিত করে লকডাউনও করা হয়। এছাড়াও কালীঘাট সড়কে অবস্থিত করোনায় আক্রান্ত রোগীর পরিবারের একটি ফার্মেসি ও ভেরাইটিজ স্টোর লকডাউন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুছ ছালেক, শ্রীমঙ্গল ৩নং সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়, মহিলা কাউন্সিলর হামিদা বেগম বেবী প্রমুখ। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজ খবর নেন এবং ঘরের ভেতরে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেন তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কালীঘাট রোড এলাকার আটজন করোনা আক্রান্ত রোগীর মধ্যে পাঁচজন স¤পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। বাকী তিনজনও কিছুদিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠবে ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন, কালীঘাট সড়কের মধ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। তাই এই সড়কে অসুস্থ রোগী বহনকারী যানবাহনসহ অন্যান্য যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেশি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তাই কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের শর্তে সড়কটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উপজেলার করোনা সংক্রমিত এলাকা ওয়ার্ডভিত্তিক বিভাজন করে প্রতি শনিবারে রিভিউ এর মাধ্যমে সংক্রমণের হার নির্ণয় করে কোন এলাকা কোন জোনের মধ্যে পড়ে তা চিহ্নিত করা হবে। এর ফলে প্রতি সপ্তাহে এসব এলাকায় জোনের ক্যাটাগরি পরিবর্তন হতে পারে।



মন্তব্য করুন