শ্রীশ্রী রাধামাধব জিউর আখড়ার জমি উদ্ধার এবং রক্ষায় সহযোগিতা চেয়েছে পরিচালনা পরিষদ

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ জবর দখল করে নেওয়া হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শ্রীশ্রী রাধামাধব জিউর আখড়া ভূ-সম্পদের জমি। বিভিন্ন কলা কৌশলে জবর দখল করে নেয়া জমিগুলি উদ্ধার এবং অবশিষ্ট ভূমি রক্ষায় সবার সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শ্রীশ্রী রাধামাধব জিউর আখড়া পরিচালনা পরিষদ।
পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পরিমল দাশের বিরুদ্ধে উত্তাপিত বিভিন্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও চাঁদা দাবীর অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার ২৮ মার্চ আখড়া প্রাঙ্গনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে রাখেন, উৎসব কমিটির সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র দাশ, কাজল কান্তি দাশ, সেবাইত করুনাই গৌরাদাশ, সুশান্ত দাশগুপ্ত, বিমান চন্দ্র দেব, নিতেশ সুত্রধর এবং সন্তোষ কুমার দেব প্রমুখ।
পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পরিমল দাশ লিখিত বক্তব্যে বলেন, সরস্বতী দাসি নামক একজন ভদ্র মহিলা বিগত ১৯৩৭ ইংরেজীর ৫ আগস্টে শ্রীশ্রী রাধামাধব আখড়া প্রতিষ্ঠা করে তাঁর নিজের ১২ কেয়ার জমি শ্রীশ্রী রাধামাধব আখড়ার নামে রেজিষ্ট্ররি কবলামূলে দান করেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে আখড়াটি পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমান পরিচালনা কমিটি বিগত ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহনের পর আখড়ার ভূ-সম্পদের দলিলপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পায় মােট ১২ কেয়ার জমির মধ্য থেকে ২ কেয়ার জমি বিভিন্ন কলা কৌশলে বিভিন্ন লোক জবর দখল করে নেয়। উক্ত বে-দখল হয়ে যাওয়া জমিগুলি উদ্ধারের জন্য বর্তমান কমিটির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে ৮ শতক জমি নিয়ে প্রায় ৮ বছর মামলা পরিচালনার পর শ্রীশ্রী রাধামাধব আখড়ার পক্ষে বিজ্ঞ আদালত রায় দিয়েছেন। আর কোন জমি যাতে বে-দখল, বে-হাত না হয় এবং আখড়া কম্পাউন্ডের পবিত্রতা, শুচিতা ও মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিগত ২০১১ সালে পরিচালনা কমিটির এক সভায় সীমানা প্রাচীর নির্মানের এক সিদ্ধান্ত হয়। উৎসবে ভক্তদের প্রসাদ গ্রহনের স্থান বৃদ্ধির প্রায় ২০ শতক নীচু জমিতে মাটি ভরাট সহ আরও কিছু উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ দেরীতে শুরু করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ৭ মার্চ সীমানা প্রাচীরের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই যারা এত দিন যাবৎ আখড়া কম্পাউন্ডটি যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যবহার করে আসছিল, যাদের জন্য আখড়ার পবিত্রতা রক্ষা করা যাচ্ছিল না, যারা আংশিকভাবে কিছু আখড়া কম্পাউন্ড-এর জমি বহুবছর যাবৎ ভোগদখল করে এসে এখন দখল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে তারাই এখন আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে শতভাগ মিথ্যা মানহানিকর, বানোয়াট ও উদ্ভট অভিযোগ করে যাচ্ছেন। শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়ার সম্পদ সুরক্ষার করার চেষ্টা করে যাচ্ছি এটাই তাদের চোখে আমার অপরাধ।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগটি শতভাগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচন ও উপজেলা পরিষদে অংশ গ্রহণ করে সম্মানজনক ভোট পাই। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমার প্রতিদ্বন্ধিতা করার বিষয়ে শুভাকাঙ্খী মহলে আলোচনা চলছে। এ খবর জেনে আমার প্রতিপক্ষের কেউ মিথ্যা, বানোয়াট চাঁদাদাবীর অভিযোগের পিছনে অত্যন্ত সুকৌশলে ইন্ধন যোগাতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।
রোববার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ফনিভূষন চক্রবর্ত্তী, উপজেলা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী, শামীম আক্তার হোসেন সহ স্থানীয় এলাকাবাসী।



মন্তব্য করুন