সরকারি গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ

কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ কুলাউড়ার ভাটেরা সরকারি রাবারবাগানে জীবনচক্র শেষ যাওয়া গাছের সঙ্গে উৎপাদনশীল গাছ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি রাতের আঁধারে দুটি পিকআপ ভ্যান বোঝাই কাঠ পাচারের সময় জব্দ হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাগানের এক কর্মচারী জানান, জীবনচক্র হারানো লগ গাছগুলো ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট কারখানায় সরবরাহের কথা। কিন্তু ঠিকাদারেরা স্থানীয় একটি চক্রের সহযোগিতায় বাগানের উৎপাদনশীল গাছ কেটে অন্যত্র পাচার করছে।
এ ঘটনায় বাগান ব্যবস্থাপক মোঃ নাজমুল হক বাদী হয়ে ১৩ ডিসেম্বর অজ্ঞাত নামায় থানায় মামলা করেছেন। ১৪ ডিসেম্বর গাছ পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে রনি ঘোষকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গত রোববার রাতে দুটি পিকআপ ভ্যান বোঝাই কাঠ পাচারের সময় জব্দ করা হয়েছে। এ সময় বাগান কর্তৃপক্ষ পুলিশের সহায়তায় ভাটেরা স্টেশনবাজার এলাকায় পিকআপভ্যান দুটি জব্দ করলে চালক ও সাব ঠিকাদার গংরা সটকে পড়েন।
চালক সুজন মিয়া জানান, রনি ঘোষ আমার ও মোস্তফার গাড়ি ভাড়া করেন। রাতে বাগানে নজরুল, কামালের উপস্থিতিতে কাটা গাছ বোঝাই করা হয়। ভাটেরা স্টেশন বাজারে যাওয়ার পর পুলিশ দেখে সেখান থেকে গাড়ি রেখে সবাই সটকে পড়েন।
সাব-ঠিকাদার নজরুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে আমি সাবকন্ট্রাক্ট নিয়েছি শুধু বাগানের গাছের লগ গোল কেটে শ্রীমঙ্গলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। গাছ পাচারের বিষয়ে আমি জানি না।’
বাগানের ব্যবস্থাপক মোঃ নাজমুল হক বলেন,‘আমরা মামলা করেছি। পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করবে। মামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ নেই কেন?’ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাঁদের শনাক্ত করতে পারিনি।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই বিদ্যুৎ পুরকায়স্থ জানান, রনি ঘোষ নামে একজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে কাঠ পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেছে।



মন্তব্য করুন