গোগালী ছড়ার ৩ স্থানে ভাঙন ৭ মাস পেরোলেও কাজ শুরু করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

February 20, 2022,

কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ কুলাউড়ার পাহাড়ি অঞ্চল থেকে সৃষ্টি হওয়া গোগালী ছড়া খালটি কুলাউড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা হয়ে হাকালুকি হাওরে গিয়ে মিলিত হয়েছে। পাহাড় থেকে ছড়ার উৎপত্তি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ভারি বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ছড়ার দু’কূল ছাপিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। গত বছর ছড়ার দু’কূলের ৩টি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এতে কুলাউড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দুই-তৃতীয়াংশ গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি, স্কুল, মাদরাসা, গবাদিপশু ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এরপর গত ২৬ জুলাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পৌরসভার মেয়র সিপার উদ্দিন আহমদকে সাথে নিয়ে সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্যোগ বিবেচনায় জরুরি মেরামতের নির্দেশ দেন। ৬ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ছড়ার ডান ও বাম পাশের তীরের ৩টি স্থানের মেরামত কাজের দায়িত্ব পায় ঢাকার রাহাদ কন্সট্রাকশন। কাজের কার্যাদেশ পাওয়ার ৭ মাস অতিবাহিত হলেও কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাজ শুরু না হওয়ায় ঠিকাদারের উদাসীনতাকে দায়ি করেন পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ।
কুলাউড়া পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ জানায়, গোগালী ছড়া খালের বাম তীরের দশমিক ৫০০ মিটার হতে দশমিক ৫৩০ মিটার ও দশমিক ৮২০ মিটার হতে দশমিক ৮৫০ মিটার এবং ডান তীরে দশমিক ৪৭০ মিটার হতে দশমিক ৪৮০ মিটার পর্যন্ত মোট ৭০ মিটার এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতি নিরুপণ কমিটি বাঁধের অস্থায়ী স্লোপ প্রতিরক্ষা কাজ নিরুপনসহ বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজটি সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রকাশ কান্তি সরকার স্বাক্ষরিত একটি কার্যাদেশ ২৯ জুলাই প্রদান করা হয়। ইতোমধ্যে ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরু করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার অবহিত করেছেন পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ।
গোগালী ছড়ার পাড়ের জয়পাশা গ্রামের বাসিন্দা মৃত আলতাফ হোসেনের স্ত্রী রবিজা বেগম (৩২) বলেন, ছড়ার তীর ঘেঁষে আমার ঘরটি পড়েছে। স্বামী নেই, দুই সন্তান নিয়ে কোনমতে একটি ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস করছি। খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। যদি আবার বন্যা শুরু হয় তাহলে ওই ভাঙন দিয়ে পানি ঢুকে আমার ঘর বিলীন করে দেবে। এজন্য কাজটি দ্রুত করার দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী মিসেস রিনা বেগম শনিবার বলেন, করোনার কারণে মূলত কাজটি শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। করোনা আক্রান্ত হয়েছিলো তাঁর পুরো পরিবার। তবে তিনি কয়েকদিনের মধ্যে কাজটি শুরু করবেন বলে জানান।
কুলাউড়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম জানান, কাজ শুরু হয়নি। আর এক মাস পরে আবার বৃষ্টি শুরু হলে কাজ শেষ করা কঠিন হবে। এটা খুব বড় কাজ না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতাই এজন্য দায়ী। বিষয়টি পৌরসভার পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান শনিবার দুপুরে বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে এই কাজ নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। যদি তারা কাজটি দ্রুত বাস্তবায়ন না করে তাহলে কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার দিয়ে কাজটি করে দেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com