টিসিবি পণ্য বিতরণে অনিয়ম করলে সংশ্লিস্ট ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা- জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার॥ আসন্ন পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সারা দেশের ন্যায় মৌলভীবাজারেও নিম্ন আয়ের ৭২ হাজার ৪২৬ পরিবারের মাঝে সরকার কর্তৃক টিসিবির পণ্য বিক্রয় করা হবে। এরমধ্যে জেলার ৭ উপজেলার ৬৭টি ইউনিয়নে মোট ১৭ লাখ ৭৪ হাজার ২১৯ জনের মধ্যে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২০৯ জন দরিদ্র জনসংখ্যার মধ্যে থেকে মোট ২৯ হাজার ১৪০ জন উপকারভোগী এই টিসিবির পণ্য ক্রয় করতে পারবেন। এছাড়া করোনাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের জন্য প্রণীত ডাটাবেজ থেকে প্রস্তুতকৃত তালিকা থেকে ৩৪ হাজার ৮৮৭ জন উপকারভোগী রয়েছেন। এছাড়া জেলার ৫টি পৌরসভায় মোট ৮ হাজার ৩৯৯ জন উপকারভোগী রয়েছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০ মার্চ সারা দেশে একযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে টিসিবির পণ্য বিক্রয়ের উদ্বোধন করবেন। এতে বড়লেখা উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ২ হাজার ৬৪৯ জন, জুড়ী উপজেলার ৬ ইউনিয়নে ৩ হাজার ৩৫৪ জন, কমলগঞ্জ উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ৪ হাজার ৯০ জন, কুলাউড়া উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে ৩ হাজার ৯০৫ জন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২ ইউনিয়নে ৪ হাজার ১৪৭ জন, রাজনগর উপজেলায় ৮ ইউনিয়নে ২ হাজার ৮৭১ জন ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ৮ হাজার ১২৪ জন কার্ডধারী উপকারভোগী টিসিবির পণ্য ক্রয় করতে পারবেন।
করোনাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের জন্য প্রণীত ডাটাবেজ থেকে প্রস্তুতকৃত তালিকা থেকে বড়লেখায় ৫ হাজার ২৪৩ জন, জুড়ীতে ৩ হাজার ৬৪৫ জন, কমলগঞ্জে ৩ হাজার ৬৯২ জন, কুলাউড়ায় ৭ হাজার ৩৮৯ জন, মৌলভীবাজার সদরে ৫ হাজার ৮৫৬ জন, রাজনগরে ৩ হাজার ৫০৯ জন ও শ্রীমঙ্গলে ৫ হাজার ৫০৩ জন উপকারভোগী রয়েছেন। এদিকে ৫ পৌরসভার মধ্যে মৌলভীবাজার পৌরসভায় ২ হাজার ১৯৭ জন, শ্রীমঙ্গলে ১ হাজার ৯৯৪ জন, কুলাউড়ায় ১ হাজার ৫৭০ জন, কমলগঞ্জে ১ হাজার ২৮৫ জন, বড়লেখায় ১ হাজার ৩৫৩ জন উপকারভোগী রয়েছেন।
১৯ মার্চ শনিবার এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, স্থানীয়ভাবে টিসিবি’র পণ্য বিতরণে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতিরোধে সরকার এবার প্রথমবারের মতো তালিকাভুক্ত করে নির্ধারিত কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবার প্রথমবারের মতো জেলার সবক’টি উপজেলার দরিদ্র লোকের তালিকা করে নির্ধারিত কার্ডধারী উপকারভোগীদের মধ্যে টিসিবির পণ্য সরবরাহ করা হবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেটি তদারকি করবেন। তিনি আরো বলেন, এবার জেলা প্রশাসন থেকে টিসিবির ডিলাররা পণ্য নিয়ে যাবেন। নির্ধারিত কার্ড ছাড়া কাউকে টিসিবি’র পণ্য দেয়া হবে না। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একজন করে ট্যাগ অফিসার দেয়া হয়েছে যাতে করে তাদের উপস্থিতিতে কোন ধরণের অনিয়ম ছাড়াই প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে টিসিবির পণ্য পৌঁছে দেয়া হয়। টিসিবি পণ্য বিতরণে কোন ডিলার স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিলে বা কোন অনিয়ম করলে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।



মন্তব্য করুন