বড়লেখায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মা মলা

আব্দুর রব : বড়লেখায় এক জামায়াত নেতার ভাইয়ের ওপর হামলার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার ১৫ আগষ্ট রাতে ডিমাই বাজারে এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে।
হামলার ঘটনায় বড়লেখা সদর ইউনিয়ন ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম সোমবার বিকেলে বাদি হয়ে থানায় মামলাটি করেছেন। হামলায় আহত ফয়ছল আহমদ মুন্না বড়লেখা সদর ইউনিয়নের বিওসি কেছরিগুল গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে।
মামলার আসামিরা হলেন- বড়লেখা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন (৫৫), আব্দুল আজিজ বসু (৪০), আব্দুল মানিক (৩২), ছয়ফুল ইসলাম (৩২), শাহিন আহমদ (২২), জয়নুল ইসলাম (২৩), রুহেল আহমদ (৩২), আব্দুল কাদির (৩০), রেহান আহমেদ (২৬), জুসাম (২৮), কামিল আহমদ পাবেল (২৫), ফখরুল ইসলাম (৩৫), রইব আলী (৪০) এবং আনুমানিক ৩০-৩৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামি।
মামলার এজাহারে বাদি জামায়াত নেতা সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিবাদিরা স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে গরু-মহিষ ও বিভিন্ন দামী কাঠ চোরাচালান করে সরকারের কর ফাঁকি দিয়ে আসছে। ৫ আগস্টের পর তিনি দায়িত্বশীল সংগঠনের একজন কর্মী হিসাবে এসব অবৈধ কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করেন। যার কারণে তারা তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার ষড়যন্ত্র চালায়। শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টায় ১৫ আগষ্ট উপলক্ষে ডিমাই বাজারে বিবাদীরা সমবেত হয়ে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নামে শ্লোগান দিতে থাকে এবং জামায়াতকে জড়িয়ে গালিগালাজ করে। এসময় সিরাজুল ইসলামের ভাই প্রবাসী ফয়ছল আহমদ মুন্না ঘটনাস্থল অতিক্রমকালে বিবাদীরা ও অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে লক্ষ্য করে বলতে থাকে, সে জামায়াত সেক্রেটারীর ভাই, তাকে ধরো। বিবাদীরা তার ভাই মুন্নার গলায় খাসিয়া দা ধরে হত্যার হুমকি দেন এবং রড দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। এসময় হামলাকারীরা বেলাল আহমদের দোকানে ঢুকে জোরপূর্বক নগদ টাকা ও বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করেছে।
থানার ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, ডিমাই বাজারের ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এব্যাপারে আহত ব্যক্তির ভাই থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছে।



মন্তব্য করুন