বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন পেলেন ৩০ অসচ্ছল নারী

সাইফুল ইসলাম : বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে নারীদের মাঝে স্বাবলম্বী হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠান জুড়ে নারীদের মুখে ছিল আনন্দ। সেলাই মেশিন অসচ্ছল পরিবারকে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।
শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বসুন্ধরা শুভসংঘ শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিন মাসব্যাপী দর্জি প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেলেন ৩০ নারী।
শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের কলেজ রোডস্থ শ্রীমঙ্গল উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মাধ্যমে এসব উপকারভোগির হাতে তুলে দেয়া হয় এসব সেলাই মেশিন ।
মৌলভীবাজার বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও দৈনিক কালের কন্ঠের জেলা প্রতিনিধি মো: সাইফুল ইসলেোম সভাপতিত্বে ও বসুন্ধরা শুভসংঘ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আল আমিনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও শুভসংঘের প্রতিষ্ঠাতা পাঠকপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বসুন্ধরা শুভ সংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান।
প্রধান অতিথি উপকার ভোগীদের উদ্দেশ্য বলেন, সেলাই মেশিন চালানো শিখেছো?—জ্বি। তোমাদের কি শিখোনো হয়েছে ?— জ্বি। এতটুকু এতটুকু বাচ্চারা শিখে ফেলেছো?—- জ্বি। কি করবে এই সেলাই মেশিন দিয়ে ….? আয় করবো। কেন বললাম এই কথা এপর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় তিন হাজার সেলাই মেশিন দিয়েছি বিভিন্ন জায়গায়। এই কথা জিজ্ঞেস করি এ জন্য যে এটা যদি কেউ বিক্রি করে দেয় তাহলে ৬,৭ বা ৮ হাজার টাকা পাবে, তাতে কিছু যাবে আসবে না। কিন্তু এই সেলাই মেশিনটা যদি আপনারা বা তোমরা ব্যবহার করো ঠিক মতো তাহলে এটা দিয়ে অনেক আয় করতে পারবে সংসারের জন্য।
যদি বাহিরের কাজ নাও কারো একটি পরিবারে সারা বছর সংসারের মানুষগুলোর জামা-কাপড় সেগুলো যদি সেলাই করা হয়, তাহলে দেখবেন বড় ধরণের টাকা সাশ্রয় হবে।
তিনি আরও বলেন, একটা হাতিয়ার তুলে দিলাম। এই হাতিয়া দিয়ে জীবন বদলানোর চেষ্টা করেন। এই হাতিয়ারটি ওরা যদি সত্যি সত্যি ব্যবহার করে, নিজেরার কাজগুলো করে বা আপনারা করেন তাহলে সংসারের চেহারাটা বদলাবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, লেখক ও গবেষক আহমদ সিরাজ, শ্রীমঙ্গল সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক মো: সাইফুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবিতা রানী দাস, শ্রীমঙ্গল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো: জাকির হোসেন।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি সাংবাদিক এম এ রকিব ও বসুন্ধরা শুভ সংঘের জেলা সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম মুন্না, হাজী রাশিদ মিয়া মেহেরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: বিল্লাল হোসেন, ও বসুন্ধরা শুভ সংঘের কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি সাব্বির এলাহী, বসুন্ধরা শুভ সংঘের শ্রীমঙ্গল শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: সুজন মিয়াসহ দৈনিক কালের কন্ঠের উপজেলা প্রতিনিধিরা।
শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান বলেন, তিন হাজার শিক্ষার্থীকে আমরা প্রতি মাসে বৃত্তি প্রদান করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী আমাদের বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করছেন এবং তারা যতদিন পড়াশোনা করবে, বসুন্ধরা শুভসংঘ তাদের পাশে দাঁড়াবে। আজকে যারা এখানে সেলাই মেশিন পেয়েছ, তোমাদের বলি, তোমরা যদি ভালো পড়াশোনা করতে পারো, যদি মেধাবী হও, তাহলে অবশ্যই তোমরাও বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তি পাবে।’
কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা উপকারভোগী স্মৃতি রাণী কর আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমি একজন অসহায় নারী। স্বামী আমার আসে না। এই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন চালিয়ে বাকি জীবন বদলাবো। এখন আমি নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবো। ধন্যবাদ বসুন্ধরা শুভ সংঘকে।
উপকারভোগি মুক্তা রানী বলেন, এখন থেকে আমি সেলাই মেশিনে কাজ করে পরিবারের জন্য বাড়তি আয় করতে পারব। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভাল থাকব। বসুন্ধরা শুভ সংঘকে ধন্যবাদ জানাই।
প্রধান অতিথি ইমদাদুল হক মিলন আরও বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ আমি তৈরি করেছিলাম। আমি বসুন্ধরাতে প্রায় ১৭ বছর ধরে কাজ করছি। যখন আমি তাদের সঙ্গে কাজ শুরু করি, বসুন্ধরা বাংলাদেশের খুবই অর্থশালী একটি বড় গ্রুপ। তখন আমি বসুন্ধরার চেয়ারম্যানকে বললাম, আপনারা তো বহুখাতে টাকা ব্যয় করেন। সাধারণ মানুষের জন্য আমি কিছু কাজ করতে চাই। যারা সমাজের একটু অসহায়, দুর্বল মানুষ, তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। এই ধারণা থেকে আমি শুভসংঘ তৈরি করলাম এবং এর একটি স্লোগান দিলাম ‘শুভ কাজে সবার পাশে’। এই শুভ কাজগুলো আসলে কী? যেমন ধরুন-আমাদের এই সেলাই প্রশিক্ষণের বিষয়টি। আমরা সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় তিন মাসের একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কোর্স করাই। সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গেলে কোনো টাকা-পয়সা লাগে না। আমরা সেলাই শেখাই এবং প্রশিক্ষণ শেষে তাদের বিনামূল্যে একটি সেলাই মেশিন দিয়ে থাকি, যাতে তারা সেলাইয়ের মাধ্যমে তাদের আর্থিক উন্নতি ঘটাতে পারে।’
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০টি সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।



মন্তব্য করুন