কমলগঞ্জ পৌরসভায় টিসিবি পণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনও’র

March 2, 2026,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : কমলগঞ্জ পৌরসভায় টিসিবির (ভর্তুকিপ্রাপ্ত) পণ্য বিতরণকে ঘিরে ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। রবিবার (১ মার্চ) দুপুর প্রায় ২টার দিকে কমলগঞ্জ পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক ভোক্তা ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেন।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার ফুল ভানু বলেন, গত মাসে টাকার অভাবে টিসিবির পণ্য নিতে পারেননি। আজ রোজা রেখে প্রতিবেশীর কাছ থেকে টাকা ধার করে পৌরসভায় এসে জানতে পারেন পণ্য নাকি আগেই বিতরণ শেষ হয়ে গেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেন—তার কার্ডের বরাদ্দকৃত পণ্য তাহলে কে নিয়েছে?

৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার মো. কামাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, টিসিবি কার্ড হাতে নিয়েও তিনি পণ্য পাননি। দুপুর ২টার মধ্যেই যদি সব কার্ডের পণ্য বিতরণ করে ডিলার চলে যান, তাহলে তার কার্ডের বরাদ্দ কোথায় গেল—এ প্রশ্ন তার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোক্তা অভিযোগ করেন, সরকার দরিদ্র মানুষের জন্য ভর্তুকি দিয়ে টিসিবির পণ্য বিক্রি করলেও প্রকৃত দরিদ্ররা অনেক সময় তা পান না। ডিলার পক্ষ থেকে আগাম মাইকিং বা প্রচারণা না থাকায় অনেক ভোক্তা নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে পারেন না। এই সুযোগে অসাধু ব্যক্তিরা ডিলারের সঙ্গে যোগসাজশ করে দরিদ্রদের পণ্য বাইরে বিক্রি করে বলেও অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে ডিলারের ম্যানেজার আনোয়ার মিয়া বলেন, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ১,৩৫৫টি কার্ডের বরাদ্দ ছিল। অনেক ভোক্তা পণ্য না নেওয়ায় তা গুদামে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। পরে পৌর প্রশাসকের সিদ্ধান্তে বরাদ্দ কমিয়ে ১,১১৯টি করা হয়।

ডিলার জয়নাল আবেদীন বলেন, আলাদা করে প্রচারণার সুযোগ নেই। সবাই যেভাবে জেনে এসে পণ্য নেন, সেভাবেই নিতে হবে। তবে বর্তমানে এখনও ২৬টি কার্ডের পণ্য অবশিষ্ট রয়েছে—ভোক্তারা কার্ড নিয়ে এলে পণ্য পাবেন।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার ভর্তুকি দিয়ে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিতরণ করছে। অভিযোগের বিষয়টি তিনি নিজে তদন্ত করে দেখবেন এবং কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলে জানান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com