কমলগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষায় অস্থিরতা: শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। নিয়মিত তদারকির অভাব, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি—এসব সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর।
জানা গেছে, উপজেলার ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাঠদানের মান, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিদ্যালয় পরিদর্শনে অনিয়ম, শিক্ষকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের অভাব এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকেই প্রশাসনিক সহায়তা কমে গেছে। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণের আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর না পাওয়ায় অনেক শিক্ষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। রূপালী ব্যাংকের কেরামতনগর শাখার ব্যবস্থাপক প্রমোদ সিন্হা জানান, আগে শিক্ষা কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষকদের ঋণ আবেদনপত্রে স্বাক্ষর দিতেন। কিন্তু বর্তমানে এ প্রক্রিয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাও বিতর্কের বাইরে নেই। ১ হাজার ১৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৮৬৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়, অনুপস্থিত থাকে ৩৩৩ জন। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা অফিসের সমন্বয়হীনতা ও প্রস্তুতির ঘাটতির কারণেই এত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একই কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের অভিযোগও উঠেছে, যা নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দেওয়ার ঘটনাও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম হয়নি এবং অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত। ব্যাংক ঋণের বিষয়ে তিনি জানান, শুধুমাত্র জিপি ফান্ডের ঋণে তিনি স্বাক্ষর করেন, অন্যান্য ঋণে তার স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা নেই।



মন্তব্য করুন