শ্রীমঙ্গলে হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে এক উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, মৌলভীবাজারের উপমহাপরিদর্শক তপন বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা। তিনি বলেন, হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন শ্রম আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা শুধু আইনি দায়িত্ব নয়, এটি একটি মানবিক দায়িত্বও। তিনি নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়নের আইনগত দিক, শ্রমিকদের শ্রেণিভিত্তিক মজুরি নির্ধারণ, নিয়োগপত্র প্রদান, মজুরি রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বিশেষ উপস্থাপনা করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (সাধারণ) পপি রানী দে। তিনি স্লাইড উপস্থাপনার মাধ্যমে নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক, শ্রমিকদের অধিকার, আইনানুগ মজুরি প্রদান, মজুরি রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, মৌলভীবাজারের শ্রম পরিদর্শক (সেফটি) মো. কামরুজ্জামান, শ্রম পরিদর্শক (স্বাস্থ্য) মো. আরাফাত আলী, শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) সৈয়দ নাহিদ হাসান, শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) মো. মতিউর রহমান, শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) তপন রায়, শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) মো. হাদিউজ্জামান এবং সহকারী মহাপরিদর্শক (স্বাস্থ্য) মো. রবিন মিয়া।
আলোচনায় অংশ নেন শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁর মালিক, ব্যবস্থাপক এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা। বক্তব্য দেন নিসর্গ নিরব ইকো কটেজের কাজী শামসুল হক, হারমিটেজ রিসোর্টের সুলতানা ফয়জুন নাহার, হোটেল শ্রমিক নেতা কুটি মিয়া, বালিশিরা রিসোর্টের ইয়াসির আরাফাত, গাউছিয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের আবুল কালাম আজাদ, রিজিক রেস্টুরেন্টের আব্দুস শহীদ, আবাসন সেবা সংস্থার নেতা সামছুল ইসলাম ও মোছাব্বির আল মাসুদসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
বক্তারা বলেন, সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে সুশৃঙ্খল ও আইনসম্মত কর্মপরিবেশ গড়ে উঠবে। তারা শ্রমিকদের কল্যাণে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত অংশীজনরা সর্বসম্মতিক্রমে প্রধানমন্ত্রীর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আলোকে চলতি জুলাই মাস থেকেই সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি প্রদান করার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, মজুরি রেজিস্টারসহ প্রয়োজনীয় সকল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং শ্রম আইন যথাযথভাবে প্রতিপালনের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভাটি আয়োজন করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার, যা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।



মন্তব্য করুন