মৌলভীবাজারের ‘চা কন্যা’ ভাস্কর্য এলাকা চরম ঝুঁকিপূর্ণ, দু/র্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা চান পর্যটকরা

August 2, 2026,

বিকুল চক্রবর্তী : মৌলভীবাজার জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও চা বাগানের ‘চা কন্যা’ ভাস্কর্য এলাকায় চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল ও ছবি তুলছেন পর্যটকরা। ব্যস্ত ঢাকা–মৌলভীবাজার আঞ্চলিক সড়কের পাশেই ভাস্কর্যটির অবস্থান হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী সড়কে নেমে ছবি তুলছেন। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পর্যটকের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। তাই আর কোনো দুর্ঘটনার আগেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পর্যটকরা।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ চা বাগান ও পর্যটনকেন্দ্রের জন্য পরিচিত মৌলভীবাজারে প্রবেশ করতেই দর্শনার্থীদের স্বাগত জানায় বিশাল আকৃতির ‘চা কন্যা’ ভাস্কর্য। পাশেই রয়েছে ‘আই লাভ শ্রীমঙ্গল’ স্থাপনা। ফলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে।

কিন্তু ভাস্কর্যটি ব্যস্ত সড়কের একেবারে পাশেই হওয়ায় ছবি তুলতে অনেককেই সড়কের ওপর দাঁড়াতে হয়। সড়কটির ওই অংশ কিছুটা বাঁকানো হওয়ায় যানবাহন তুলনামূলক দ্রুতগতিতে এবং রাস্তার বাম পাশ ঘেঁষে চলাচল করে। এতে পর্যটক ও যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। পর্যটকদের অভিযোগ, জনপ্রিয় এই পর্যটনস্থলে নিরাপদে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার জন্য আলাদা কোনো জায়গা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কিংবা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ফলে আনন্দময় ভ্রমণ মুহূর্তেই দুর্ঘটনায় পরিণত হতে পারে।

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক সৈয়দ মনসুর আলী বলেন, চা কন্যা ভাস্কর্যটি রাস্তার একেবারে পাশে অবস্থিত। এছাড়া এটি অনেক উঁচু হওয়ায় এর ছবি তুলতে হলে দূর থেকে ছবি তুলতে হয়। এ কারণে পর্যটকদের অনেক সময় সড়কের ওপর চলে আসতে হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

অপর পর্যটক যশোরের কামরুল ইসলাম বলেন, চা কন্যা ভাস্কর্যের স্থানটি  এমনিতেই একটি মোড়ে অবস্থিত। সড়কটি কিছুটা ঢালু হওয়ায় যানবাহন মোড় ঘোরানোর সময় বাম দিকে চেপে আসে। এতে সেখানে চরম দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি দ্রুত এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জয়াউর রহমান বলেন, ‘চা কন্যা’ এলাকা আরও দৃষ্টিনন্দন করতে এবং পর্যটকদের সুবিধার্থে ওয়াশ ব্লকসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পর্যটকদের দাবি, ভাস্কর্যের বিপরীত পাশে সড়ক প্রশস্ত করা, উভয় পাশে স্পিড ব্রেকার বা রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপন, প্রয়োজনীয় সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড বসানো এবং সড়কের বাঁকটি প্রকৌশলগতভাবে ঝুঁকিমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসবে।

এর আগে, ২০২৬ সালের ২৮ জুন বিকেলে সাতগাঁও ‘চা কন্যা’ ভাস্কর্যের সামনে হবিগঞ্জ–মৌলভীবাজার সড়কে একটি মোটরসাইকেল ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের সৌরভ (১৭) ও নাঈম (১৭) নিহত হন। তারা মোটরসাইকেলে করে শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে এসেছিলেন।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। শিগগিরই ওই এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে যাব। মিরপুর থেকে শেরপুর পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্ত করার সময় বিষয়টির সমাধান করা সম্ভব হবে।

মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তাঁর মতে, সড়কের বাঁকটি ঝুঁকিমুক্ত বা আরও সোজা করা গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

পর্যটকরাও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ‘চা কন্যা’ মৌলভীবাজারের অন্যতম পরিচিত প্রতীক। তাই দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এ স্থানটিকে আরও পর্যটকবান্ধব করে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com