ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজে সচেতন হোন অন্যকে সচেতন করুন ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে করণীয়

October 15, 2026,

১. মশার বংশবিস্তার রোধ (ঘরবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখা)

পানি জমতে না দেওয়া: বাড়ির আশপাশে বা টব, ড্রাম, দইয়ের বাটি, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা প্লাস্টিকের বোতলে ৫ দিনের বেশি যেন পানি জমে না থাকে।

পাত্র পরিষ্কার ও উল্টে রাখা: ফুলের টব, এসি বা ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানি নিয়মিত ফেলে দিন। ব্যবহার্য পানির পাত্র ভালোমতো পরিষ্কার বা ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ঘষে ঢেকে রাখুন।

ঝোপঝাড় পরিষ্কার: বাড়ির আশপাশের জঙ্গল ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখুন।

২. মশার কামড় থেকে সুরক্ষা

মশারি ব্যবহার: দিনে কিংবা রাতে—সব সময়ই মশারি টানিয়ে ঘুমান।

পোশাক নির্বাচন: দিনে বা ভোরের দিকে এবং সন্ধ্যার আগে-পরে মশার উপদ্রব বেশি থাকে। এ সময় সম্ভব হলে সম্পূর্ণ শরীর ঢাকা ঢিলেঢালা পোশাক (লম্বা হাতা জামা ও লম্বা প্যান্ট) পরুন।

মশা তাড়ানোর ক্রিম বা স্প্রে: খোলা ত্বকে মশা তাড়ানোর ক্রিম বা রিপেলেন্ট (DEET যুক্ত ক্রিম) ব্যবহার করতে পারেন।

দরজা-জানালা সুরক্ষিত রাখা: জানালে নেট বা স্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজন ছাড়া দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন।

৩. জ্বর হলে করণীয়

হঠাৎ অতিরিক্ত জ্বর বা তীব্র মাথা, হাড় ও পেশিতে ব্যথা হলে অবহেলা করবেন না।

নিকটস্থ হাসপাতাল বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেঙ্গু কর্নারে গিয়ে পরীক্ষা করান।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ খাবেন না। শুধু প্যারাসিটামল গ্রহণ করতে পারেন। প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খান। আতংকিত না হয়ে চিকিৎসা নিন, সুস্থ থাকুন ।

“রাখিব চারপাশ পরিস্কার,করিব ডেঙ্গু প্রতিকার”

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের জরুরি বিভাগে বা বহির্বিভাগে (ওপিডি) যথাসময়ে টিকিট সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (পুরানো প্রেসক্রিপশন,রিপোর্ট) সাথে রেখে ও সুশৃঙ্খলভাবে সেবা গ্রহণ করুন। বহিরাগত ও দালালের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। জরুরি প্রয়োজনে দায়িত্বরত নার্স বা চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলুন।

হাসপাতাল সেবায় রোগীদের করণীয় :

প্রস্তুতি ও কাগজপত্র : আসার সময় রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র,পূর্বের সমস্ত প্রেসক্রিপশন,পরীক্ষার রিপোর্ট এবং বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধের তালিকা সাথে রাখুন।

টিকিট ও নিবন্ধন : বহির্বিভাগের (ওপিডি) জন্য সকালের দিকে টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করুন। জরুরি ক্ষেত্রে সরাসরি ইমার্জেন্সি বিভাগে যোগাযোগ করুন।

তথ্য প্রদান : ডাক্তার বা নার্সকে রোগের লক্ষণ শুরু হওয়ার সময় এবং অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে বিস্তারিত জানান।

রোগীর সহায়তা : রোগীর সাথে অন্তত একজন সচেতন আত্মীয় বা সঙ্গী রাখুন, যিনি প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য সহায়তা করতে পারবেন।

সতর্কতা : দালাল বা অপরিচিত কারোর প্ররোচনায় পড়ে কোনো খাবার খাবেন না। তাদের পরামর্শে বাহির থেকে পরীক্ষা বা অযাচিত ওষুধ কিনবেন না। সরাসরি দায়িত্বরত নার্স বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনার মোবাইল ফোন,নগদ টাকা,গহনা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিজ দায়িত্বে নিরপাদ রাখুন।

পরিচ্ছন্নতা ও নিয়ম : হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন। অযথা যেখানে সেখান থুথু ও ময়লা ফেলবেন না। প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট ডাস্টিবিন ব্যবহার করুন। রোগী বা রোগীর সহায়করা উচ্চস্বরে কথা,গল্প বা ভিড় করবেন না। অযথা ঘুরা ফেরা করবেন না। নির্ধারিত ওয়ার্ডে অবস্থান করুন। বয়স্ক,শিশু ও মুমূর্ষ রোগীদের চিকিৎসা সেবা গ্রহণে অগ্রাধিকার দিয়ে সহযোগিতা করুন।

রিলিজ/ছাড়পত্র : হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার সময় “ডিসচার্জ সামারি” বা ছাড়পত্র,ওষুধ এবং ফলো-আপের নির্দেশনাবলী বুঝে নিন।

জরুরি পরামর্শ : জেলা সদর হাসপাতালে অনেক সময় রোগীর চাপ বেশি থাকে,তাই ধৈর্য ধারণ করে নিয়মানুযায়ী সেবা নিন এবং চিকিৎসা সক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে হেল্প ডেস্কে যোগাযোগ করুন। রোগীদের সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সার্বিক সহযোগিতা করুন।

 

ডা. প্রণয় কান্তি দাস

তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক)

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, মৌলভীবাজার।

 

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com