বড়লেখায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে লাখ টাকার সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ গোপনে বিক্রির পায়তারা

বড়লেখা প্রতিনিধি॥ বড়লেখা উপজেলার ছোটলিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভুতভাবে
পার্শবর্তী প্রাইমারী স্কুলের রোপনকৃত লাখ টাকার বিশাল রেইনট্রি, কৃষ্ণচুড়াসহ বেশ কয়েকটি সরকারি
গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে উচু স্থানের মাটি কাটায় পার্শবর্তী
প্রাইমারী স্কুলের পরিত্যক্ত ভবন হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়েছে। বন বিভাগের যথাযথ অনুমতি ব্যতিত সরকারি-বেসরকারি ভুৃমিতে সৃজিত সবধরণের বনজ বৃক্ষ কাটা ও পরিবহণ
সম্পুর্ণ বেআইনী। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ছোটলিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উসমান আলী ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে পার্শবর্তী প্রাইমারী স্কুলের
পরিত্যক্ত ভবন সংলগ্ন উচু স্থানের মাটি কাটাতে থাকেন। এতে ওই স্কুলের রোপনকৃত বিশাল একটি রেইনট্রি গাছ
উপড়ে পড়ে। গাছটি কেটে নেয়ার চেষ্টা চালালে প্রাইমারী স্কুল কমিটির সভাপতি আব্দুল খালিক চৌধুরী
ও প্রধান শিক্ষক প্রতাপ কুমার দত্তসহ এলাকার লোকজনবাধা দেন। কিন্ত বাধা না মানায় ইউএনও বরাবরে লিখিত
অভিযোগ দাখিল করেন। প্রধান শিক্ষক প্রতাপ কুমার দত্তজানান, অভিযোগ দেয়ার পর আরো কয়েকটি গাছ কাটা
হয়েছে। ছোটলিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উসমান আলী জানান, স্কুলের আসবাবপত্রের সংকট নিরসনের এবং নিচু জায়গা ভরাটের জন্য ম্যানেজিং কমিটির সর্বসম্মত রেজুলেশন মোতাবেক গাছ কাটা ও মাটি কাটা হচ্ছে।
সদস্য মখলিছুর রহমান ও দাতা সদস্য আশরাফ আহমদ জানান, স্কুলে আসবাবপত্রের কোন সংকট নেই, সরকারি গাছ কাটার কোন রেজুলেশন হয়েছে বলে জানা নেই। অন্য আরেকটি স্কুলের উচু স্থান কেটে মাটি ভরাটের সিদ্ধান্ত হয়নি। বাহিরে থেকে মাটি এনে নিচু স্থান ভরাটের সিদ্ধান্ত হয়। এদিকে এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ও জাহেদ আহমদ জানান, কেটে ফেলা রেইনট্রি গাছের বাজারমূল্য লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি বিক্রির জন্য গাছটি দরদাম করাচ্ছেন। ইউএনও মোহাম্মদ সোহেল মাহমুদ ছোটলেখা প্রাইমারী স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ
প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে জানান, ছোটলিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে গাছ কাটা বন্ধ রাখতে
নির্দেশ দিয়েছেন।



মন্তব্য করুন