বড়লেখায় শ্রমিক নেতার প্রবাস ফেরৎ স্ত্রী উধাও বিদেশে পাচার হওয়ার আশংকা স্বামীর

November 2, 2017,

বড়লেখা প্রতিনিধি॥ বড়লেখায় পরিবহন শ্রমিক নেতার সৌদি ফেরৎ স্ত্রী রহস্যজনকভাবে নিখোজ রয়েছেন। খালা শ্বাশুড়ি পুনরায় বিদেশ পাঠাতে ফুসলিয়ে তাকে সরিয়ে রাখার খবর পেয়ে স্ত্রীর সন্ধান জানতে গিয়ে মামলার আসামী হলেন শ্রমিক নেতা আব্দুল আহিদ। তিনি ১৫ দিনেও স্ত্রীর সন্ধান না পাওয়ায় বিদেশ পাচারের আশংকা করছেন। নিখোজ গৃহবধুর ৯ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে মিজানুর রহমান নাহিদও মায়ের জন্য চরম উদ্বিগ্ন।
জানা গেছে, উপজেলা অটোটেম্পু সিএনজি পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল আহিদের দ্বিতীয় স্ত্রী রেবা বেগম সৌদি আবরে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। ১৭ মাস সৌদি থাকার পর গত জুলাই মাসে দেশে ফিরেন। আব্দুল আহিদ ও রেবা বেগমের একমাত্র ছেলে মিজানুর রহমান নাহিদ স্থানীয় ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র। আব্দুল আহিদ স্ত্রীকে  ২ মাস ধরে প্রতিবেশী পারভিন বেগমের কাছে টেইলারী কাজ শিখাচ্ছেন। যাতে বিদেশ না গিয়ে দেশে টেইলারী করে আয় রোজগার করতে পারেন। রেবা প্রতিদিন দুপুরে পারভিনের বাড়িতে গিয়ে সেলাই কাজ শিখছিলেন। গত ১৮ অক্টোবর রেবা বেগম বাড়ী ফেরেননি। আব্দুল আহিদ খোজ নিয়ে টেইলার পারভিন বেগমসহ প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানতে পারেন স্ত্রী রেবা বেগম খালা শ্বাশুড়ির বাড়িতে গিয়েছেন। কিন্তু খালা শ্বাশুড়ি তা অস্বীকার করেন। ঘটনার দুইদিন পর ২০ অক্টোবর খালা শ্বাশুড়ি ফাতা বেগম আব্দুল আহিদের বাড়িতে রেবার কাপড়-চোপড় আনতে গেলে আহিদ স্ত্রীর সন্ধান দিতে তাকে চাপ দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় ফাতা বেগমের জামাতা সুমন আহমদ শ্বাশুড়িকে হত্যার চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ এনে আব্দুল আহিদকে আসামী করে থানায় মামলা করেন। এর আগে শ্রমিক নেতা আহিদ আহমদ স্ত্রী রেবা বেগমকে উস্কানী প্রদান ও ফুসলিয়ে সরিয়ে রাখার অভিযোগে খালা শ্বাশুড়ি ফাতা বেগম ও জামাতা সুমন আহমদকে আসামী করে থানায় মামলা করেন।


আব্দুল আহিদ জানান, ওই খালা শ্বাশুড়ি তার অমতে স্ত্রীকে বিদেশ পাঠান। ১৭ মাসে ছেলের জন্য মাত্র ২২ হাজার টাকা দিয়েছে। রেবা বিদেশ থেকে সব টাকা পয়সা তার খালার কাছে দিয়েছে। আমি টাকা পাঠিয়ে তাকে দেশে এনেছি। ফাতা বেগম আমার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে আবার বিদেশ পাঠাতে চাচ্ছে। এজন্য অন্যত্র সরিয়ে রেখেছে। আমি অনেক অনুনয় বিনয় করেও স্ত্রীর সন্ধান পেতে ব্যর্থ হই। উল্টো আমাকে আসামী করে থানায় মামলা দেয়া হয়। বিভিন্নভাবে তারা হুমকি ধমকি দিচ্ছে আমার স্ত্রীকে আর ফেরৎ দিবে না। আশংকা করছি তারা আমার স্ত্রীকে বিদেশ পাচার করেছে।
নিখোজ গৃহবধু রেবা বেগমের এসমাত্র ছেলে মিজানুর রহমান নাহিদ জানায়, বাবা-মায়ের মধ্যে কোন মনোমালিন্য ছিল না। নানী (ফাতা বেগম) আমার মাকে লুকিয়ে রেখেছেন। মায়ের জন্য খুব মন খারাপ লাগছে। কয়েকদিন ধরে সে স্কুলে যাচ্ছে না।
এব্যাপারে জানতে ফাতা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহ্ম্মাদ সহিদুর রহমান যুগান্তরকে জানান, পুলিশ উভয় পক্ষের মামলা আদালতে এফআইআর করেছে। নিখোজ গৃহবধু রেবা বেগমকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com