হাকালুকি হাওরপারের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের সরকারী সহায়তা প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ

আব্দুর রব॥ বড়লেখায় বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র কৃষক ও মৎস্যজীবি পরিবারের মধ্যে ভিজিএফ কর্মসুচির আওতায় বরাদ্দকৃত পরিবার প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল ও ৫০০ টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সচিবরা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের নিদের্শনা ভঙ্গ করে কৃষকের তালিকা রদ বদল করে অকৃষক ও সচ্ছলদের মধ্যে ভিজিএফের চাল ও টাকা বিতরণ করছেন। আবার অনেক জনপ্রতিনিধি একজনের বরাদ্দ ২-৩ জনকেও ভাগ করে দিয়েছেন।
বর্তমানে ৫ম মাসের সহায়তা প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও ওয়ার্ড মেম্বার ও ইউপি সচিবের রোষানলে পড়ে অনেক দরিদ্র কৃষক মাত্র ১ মাস সহায়তা পেয়েছেন। নিয়ম বহির্ভুতভাবে প্রথম তালিকা থেকে তাদের নাম কর্তন করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী দরিদ্র কৃষকরা অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, হাকালুকি হাওরপারের বড়লেখা উপজেলার ১০ ইউনিয়নের বোরো ফসল হারানো ১৮৫০ জন কৃষকের পরিবার প্রতি বিনামূল্যে মাসিক ৩০ কেজি চাল ও ৫০০ টাকা বিতরণের উদ্যোগ নেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। গত ৯ মে উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি প্রাইমারী স্কুল প্রাঙ্গণে এ কর্মসুচির উদ্বোধন করেন সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। মন্ত্রীর হাত দিয়ে প্রথম মাসের সহায়তার ৩০ কেজি চাল ও ৫০০ টাকা গ্রহণ করেন বর্নি ইউনিয়নের দরিদ্র কৃষক শৈলেশ দাস, নেপাল দাস, জগধন বিশ্বাস, কিশোর বিশ্বাস প্রমুখ। এ কর্মসুচির সহায়তার ৫ম কিস্তি শেষ হলেও এসব কৃষক আর কোন সহায়তা পাননি। তারা অভিযোগ করেন, ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার সুবোধ চন্দ্র দাস ও ইউপি সচিব সিদ্ধার্থ দাস সরকারী সহায়তা অব্যাহত রাখতে তাদের কাছে ৫০০ টাকা করে চাদা দাবী করেন। তারা টাকা না দেয়ায় তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেন। অনেক কৃষক চাল পেলে টাকা পায়নি। আর টাকা পেলে চাল পায়নি। এব্যাপারে গত ৯ অক্টোবর ভুক্তভোগী কৃষক শৈলেশ চন্দ্র দাস ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত বর্নি ইউপি মেম্বার সুবোধ চন্দ্র দাস জানান, যোগাযোগ মন্ত্রীর হাতে তার ইউনিয়নের যে ৫ কৃষককে চাল ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয় তাদেরকে একবারের জন্যই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজাদের রহমান জানান, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় যাদের মাধ্যমে এ কর্মসুচির উদ্বোধন করেন সেসব কৃষককে মাত্র ১ বার সহায়তা প্রদান চরম অনিয়ম। ভিজিএফ কর্মসুচির ৫ম দফার বরাদ্দ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সরকার এ কর্মসুচি আরো বর্ধিত করেছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কোন কৃষক ১ বার সহায়তা পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বঞ্চিত কৃষকের অবশিষ্ট ৪ কিস্তির চাল ও টাকা অবশ্যই প্রদান করতে হবে।



মন্তব্য করুন