বড়লেখায় ২ শিশু সন্তানসহ প্রবাসীর স্ত্রী নিহতের ঘটনায় স্তব্ধ এলাকাবাসী : আটক ৩

আবদুর রব॥ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ২ শিশু সন্তানসহ কাতার প্রবাসী আকামত আলীর স্ত্রী নিহতের ঘটনায় স্তব্ধ এলাকাবাসী। হাকালুকি হাওরপারের ভোলারকান্দি গ্রামে শুনশান নিরবতা বিরাজ করছে। প্রতিবেশীরা যেন বাকরুদ্ধ। এলাকায় তথতমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে নিহত মাজেদা বেগম, তার ৫ বছরের মেয়ে হাজেরা বেগম লাবণী ও ৩ বছরের ছেলে ফারুক আহমদের লাশ উদ্ধারের পর থেকে ৩ চাচা শ্বশুড়সহ বাড়ীর পুরুষ লোকেরা গা ঢাকা দেয়ায় অনেকেই মনে করছেন ঘটনাটি পরিকল্পিত ট্রিপল মার্ডার ? এদিকে রহস্য উদঘাটনে বুধবার ভোরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ৩ মহিলাকে আটক করেছে। এরা হচ্ছেন মাজেদার সৎশ্বাশুড়ী মনোয়ারা বেগম (৫৩), চাচী শ্বাশুড়ী আলিফজান বিবি (৪৫) ও দেবর দুবাই প্রবাসী আবেদ আলীর স্ত্রী সামিয়া বেগম (২১)। ময়না তদন্তের পর পুলিশ বুধবার সন্ধ্যায় নিহত গৃহবধুর পিতৃপক্ষের নিকট লাশ হস্তান্তর করেছে। সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় নিহতের বাবার বাড়ী কুলাউড়া উপজেলার সাদিপুর গ্রামে লাশ দাফন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে থানা পুলিশ একই পরিবারের মা মাজেদা বেগম ও মেয়ে হাজেরা বেগম লাবণীর ঘরের তীরের সাথে ঝুলন্ত এবং শিশুপুত্র ফারুক আহমদের লাশ তাদের বসতঘরের মেঝ থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়।
বুধবার বিকেলে ভোলারকান্দি গ্রামে সরজেমিনে গিয়ে গ্রামজুড়ে নিস্তব্ধতা বিরাজ করতে দেখা গেছে। শোকে কাতর এলাকার লোকজনের মূখ থেকে যেন কথাই বের হচ্ছে না। প্রতিবেশী ইছমারুন বেগম, সায়েদ আহমদ, ফয়জুল হক জানান, মঙ্গলবার বিকেলে আকামতের বাড়ীতে কান্নাকাটি শুনে তারা এগিয়ে যান। কাচা টিন সেটের ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে তারা মাজেদা ও তার মেয়ে লাবণীর ঝুলন্ত এবং মাটির মধ্যে শুয়ে থাকা শিশু ফারুকের লাশ দেখতে পান। বিষয়টি তারা ওয়ার্ড মেম্বার মাসুক আহমদ ও গ্রামের মুরব্বিদের জানান। তাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ মা সহ ৩ সন্তানের লাশ উদ্ধার করে। লাবণী স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলের শিশু ওয়ানের ছাত্রী। গত ১৮ ডিসেম্বর লাবণী স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করেছে জানালের স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম।
সুজানগর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সেলিম উদ্দিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আকামতের বাড়ীতে যান। পুলিশ যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আরেক গ্রাম পুলিশ নিয়ে তিনি লাশগুলো পাহারা দেন। এসময় লোকজন মারফত তিনি শুনেছেন নিহত মাজেদা বেগম মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রবাসী স্বামী আকামতের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন। এদিন রূপালী ব্যাংক আজিমগঞ্জ শাখা থেকে তিনি স্বামীর পাঠানো ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। বাড়ীর পাশেই তিনি পাকা বাড়ী নির্মাণ করাচ্ছেন। চাচা শ্বশুড় সরাফত আলী নির্মাণ কাজ তদারকি করতেন। তার মাধ্যমে তিনি বাজার থেকে কয়েক ব্যাগ সিমেন্টও ক্রয় করেন। তাদের মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে চাচা শ্বশুড় সরাফত আলী, কেরামত আলী ও মারফত আলীকে আর দেখা যায়নি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নছিব আলী জানান, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের চেক বইয়ের মুড়ি ও মোবাইল ফোন পুলিশ জব্দ করেছে। ঘটনাটি বেশ রহস্যজনক মনে হচ্ছে। সুষ্টো তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত করার দাবী জানান।
নিহত মাজেদা বেগমের মামা সেলু মিয়া জানান, স্বামীর বাড়ীর কোন লোক ময়নাতদন্তের জন্য লাশের সাথে যায়নি। পুলিশের সাথে তিনি গিয়েছেন। ভগ্নিপতি সোয়াগ আলী (নিহত মাজেদার বাবা) দুবাই প্রবাসী। তার সাথে যোগাযোগ করে তিনজনের লাশই বুধবার বাদ মাগরিব কুলাউড়ায় সাদিপুর গ্রামে দাফন করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে তার ভাগ্নি ও নাতি-নাতনিদের হত্যা করা হয়েছে দাবী করে তিনি বলেন এ ঘটনায় তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বড়লেখা থানার এস.আই জাহাঙ্গির আলম ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ মহিলাকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ময়না তদন্ত শেষে নিহতদের লাশ পিতৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে। রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।



মন্তব্য করুন