বড়লেখার চান্দগ্রাম ডিগ্রী মাদ্রাসা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ৭ দিন ধরে তালা ঝুলছে

January 23, 2018,

আব্দুর রব॥ বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রাম আনোয়ারুল উলুম ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ৬ দিন ধরে তালা ঝুলছে।

১৮ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত গভর্নিংবডির সভায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সভাপতিসহ সংখ্যগরিষ্ট সদস্যের সাথে অধ্যক্ষের মতানৈক্য দেখা দিলে অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্তের ঘোষণা দিয়ে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এসময় মাদ্রাসার রেজুলেশন বুক ও নোটিশ বুক সভপতির হেফাজতে এবং অধ্যক্ষের কার্যালয়ের তালা পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। এ জটিলতায় মাদ্রাসার সকল শ্রেণী কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। 

জানা গেছে,২৩ ফেব্রুয়ারী চান্দগ্রাম এ.ইউ ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার চলমান গভনিংবডির মেয়াদ শেষ হবে। নিয়ম অনুযায়ী কমিটির মেয়াদের ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। প্রস্তুতি স্বরূপ ১৮ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত সভায় মাদ্রাসার স্থায়ী ও অস্থায়ী দাতা সদস্যের ভোটার তালিকা নিয়ে সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক, সহ-সভাপতি আব্দুর রহিমসহ

কয়েকজন সদস্যের সাথে অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর মতানৈক্য দেখা দেয়। এর জের ধরে সভাপতি ও সহ-সভাপতি অধ্যক্ষকে বরখাস্তের ঘোষণা দিয়ে রেজুলেশন বই ও নোটিশ বই আয়ত্বে নিয়ে অধ্যক্ষকে তার কার্যালয় থেকে বের করে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ইউএনও’র মাধ্যমে খবর পেয়ে থানার ওসি (তদন্ত) দেবদুলাল ধর উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে অধ্যক্ষের কক্ষের চাবি নিয়ে যান। এ জটিলতা নিরসনের লক্ষে ইউএনও মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদের উদ্যোগে দুই দফা সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বিষয়টি নিষ্পত্তি ঘটেনি।

অধ্যক্ষ মোস্তাক আহমদ চৌধুরী জানান, তিনি ২০১৫ সালে চলিত কমিটির অধীনে এ মাদ্রাসায় যোগদান করেন। কমিটির নেতৃবৃন্দের দেয়া তালিকা অনুযায়ীই তিনি মাদ্রাসার স্থায়ী ও অস্থায়ী দাতা সদস্যদের তালিকা তৈরী করেন। সভাপতি হঠাৎ তালিকায় ৭ সদস্যের নাম কিভাবে অর্ন্তভুক্ত হলো জানতে চেয়েই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই আমাকে সাময়িক বরখাস্তের ঘোষণা দিয়ে  রেজুলেশন বই ও নোটিশ বই কেড়ে নিয়ে আমাকে কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং তালা ঝুলিয়ে দেন। আমি বিষয়গুলো জেলা প্রশাসক, ইসলামীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

গভর্নিংবডির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক জানান, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ছাড়াও সভার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ রয়েছে। বিধি মোতাবেক পরিচালনা পর্ষদের সম্মতিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্তে নির্দোষ প্রমাণ হলে তাকে স্বপদে বহাল করা হবে।

ওসি (তদন্ত) দেবদুলাল ধর জানান, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ও অধ্যক্ষের মধ্যে কিছু ঝামেলার সৃষ্টি হয়। অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিলে উত্তেজনা দেখা দেয়। তিনি উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতির সামাল দেন। উভয়পক্ষের ঝামেলা মিটমাট না হওয়ায় ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের চাবি এখনও তার হেফাজতে  রেখেছেন।     

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com