হাকালুকির অভয়াশ্রম বিল থেকে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকার মাছ আহরণের অভিযোগ

February 4, 2018,

আব্দুর রব॥ হাকালুকি হাওরের মাছের অন্যতম স্থায়ী অভায়শ্রম পলোভাঙ্গা (বদ্ধ) বিল থেকে কয়েকটি প্রভাবশালী মৎস্যজীবি সমিতির অসাধু ব্যক্তিরা অবৈধভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাছ আহরণ করছে। এব্যাপারে হাওরপাড়ের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দারা ১৯ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রশাসন কোন ধরণের ব্যবস্থা না নেয়্ায় মাছ লুটেরা বাহিনী অনেকটা বেপরোয়া। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় তালিমপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশিলদারের সাথে আতাত করে প্রভাবশালীরা সরকারের অভয়াশ্রম বিলের মৎস্যসম্পদ উজাড় করছে।
ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন, হাবিব আলী, জাফর আহমদসহ শতাধিক লোকজনের জেলা প্রশাসকের বরাবরে প্রেরিত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, সরকার ঘোষিত হাকালুকির অন্যতম মাছের অভায়শ্রম পলোভাঙ্গা বিলটি বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা সিএনআরএসের গঠিত সমিতির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। মাছের প্রজনন বৃদ্ধি ও বিলুপ্তি রোধে সরকার অনেক আগেই এ জলমহালটির ইজারা বন্ধ ঘোষণা করে সবধরণের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু সিএনআরএসের বিভিন্ন সমিতির লোকজন রক্ষণাবেক্ষণের নামে এ বিলটির মৎস্যসম্পদ লুটপাটই করছে। এতে হাকালুকি হাওরে মাছের ভান্ডার সমৃদ্ধ করার যে উদ্দেশ্য নিয়ে সরকার পলোভাঙ্গা বিলকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছিল তা ভেস্তে যাচ্ছে।
সরেজমিনে হাকালুকির পলোভাঙ্গা অভয়াশ্রম বিলের পশ্চিম-দক্ষিণ পাড়ে মাছ আহরণের জন্য অস্থায়ী বাসা ও বিলের প্রধান খাড়ায় বাশের খাটি বসানো ও ঘোরজাল পোতা থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া উত্তর পশ্চিম পাড়ে আরেকটি বাসায় ২০-২৫ লোক বসবাস করলেও এ প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সটকে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী জানান, রামজিওল বিসিআই সমবায় সমিতির সভাপতি নজিব আলী, সদস্য মুকলেছ মিয়া, ইমান আলী, জামাল মিয়া, কামাল মিয়া, দুলাল মিয়া, নুর ইসলাম প্রমূখ প্রভাবশালীরা হাওরে দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পলোভাঙ্গা বিলে মাছ আহরণে নামে। অসাধু চক্র সঙ্গবদ্ধভাবে মাছ ধরতে নামায় তাদেরকে বাধা দেয়ার কারো সাহস থাকে না। বিলের খাড়ায় বসানো অবৈধ ঘোরজালে প্রতিরাতে ব্যাপক মাছ ধরা পড়ে। ভোরবেলায় বিলের পাড়েই তারা ৪-৫ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করে।
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ জানান, এব্যাপারে হাকালুকি হাওরপাড়ের ইসলামপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। জেলা প্রশাসক মহোদয় অভিযোগটি তাকে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। তিনি সহকারী কমিশনারকে (ভুমি) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com