বড়লেখায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত হওয়ার ঘটনায় হত্যা চেষ্টার মামলা !

May 27, 2019,

বড়লেখা প্রতিনিধি : বড়লেখায় ভোরবেলা আম কুড়াতে গিয়ে পোল্ট্রি ফার্ম ঘেরা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে শিশু আহত হওয়ার ঘটনায় নিরীহ পরিবারের ৩ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা চেষ্টার মামলা দিয়েছেন প্রবাসীর স্ত্রী আছমা বেগম। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ঘটনায় হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের খবরে এলাকায় তোলপাড় চলছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার বর্নি ইউপির কাজিরবন্দ গ্রামের মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে আজমল আলী (২১) মা-সহ পরিবারের ৫ সদস্যের জীবিকা নির্বাহের লক্ষে প্রায় ৩ বছর পূর্বে বাড়িতে ২০০টি মোরগ নিয়ে পোল্ট্রি ফার্ম শুরু করেন। ফার্মের আয় দিয়ে ভালই চলছিল আজমল আলীর সংসার, বৃদ্ধি পাচ্ছিল মোরগের সংখ্যা। কিন্তু ১ বছর পূর্বে রাতের আধাঁরে বন বিড়াল ও শিয়াল ফার্মের বেড়া ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে ১১৬ টি মোরগ মেরে ফেলে। অন্যান্য খামারিদের পরামর্শে শিয়ালের কবল থেকে মোরগ বাঁচাতে তিনি পোল্ট্রি ফার্মের বেড়ার পাশে জিআই তার জড়িয়ে রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখেন। প্রতিদিন ভোরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ পদ্ধতি অনুসরণ করায় গত ১ বছরের মধ্যে বন বিড়াল ও শিয়াল একটি মোরগেরও ক্ষতি করতে পারেনি।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী শিশুদের সুত্রে জানা গেছে, গত ২ মে ভোরবেলা গ্রামের প্রবাসী হেলাল আহমদের শিশুপুত্র আলিম উদ্দিন (১১) খেলার সাথি আমিনুল ইসলাম (৯) ও আশরাফুল ইসলাম (৮)কে নিয়ে আজমল আলীর বাড়িতে আম কুড়াতে যায়। এসময় বাড়ির সবাই ঘুমে ছিলেন। পোল্ট্রি ফার্মের পাশ দিয়ে আম গাছের নিচে যাওয়ার সময় আলিম উদ্দিন (১১) বন বিড়াল ও শিয়াল তাড়ানোর পাতানো বৈদ্যুতির তারে জড়িয়ে পড়লে ছিটকে নিচু স্থানে পড়ে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এসময় সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে সাথে আসা দুই শিশু আমিনুল ও আশরাফুল হাল¬া-চিৎকার করতে থাকে। তারা দুইজনেই আজমল আলীর ঘরের দরজায় গিয়ে তাদেরকে ডাকতে থাকে। ঘুম থেকে উঠে আজমল আলীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা শিশু আলিম উদ্দিনকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে ঘরে নিয়ে মাথায় পানি দেন। বিভিন্ন ভাবে শুশ্র“ষার চেষ্টা চালান। পাশের মাদ্রাসার এক মৌলানাকে এনে ঝাড়ফুঁক দেন। এরই মধ্যে খবর পেয়ে আহত শিশু আলিম উদ্দিনের মা আছমা বেগমসহ স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে তাকে ভর্তি করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাক্তাররা তাকে ওসমানীতে রেফার করেন। ওসমানীতে খামারি আজমল আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা আহত শিশুকে দেখতে যান, খোঁজ খবর নেন। সেখান থেকে সুন্থ্য হয়ে বাড়ি ফেরা পর্যন্ত দুই পরিবারের মধ্যে ভাল যোগাযোগ ছিল। কিন্তু ঘটনার ১৭ দিন পর গত ১৯ মে বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়েল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পোল্ট্রি খামারি আজমল আলী, তার চাচা জামাল উদ্দিন ও মা নাজমা বেগমকে আসামী করে আহত শিশু আলিম উদ্দিনের মা আছমা বেগম হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের খবরে নিরীহ পরিবারের সদস্যরাই নয়, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত হওয়ার ঘটনা জ্ঞাত অনেকেই বিষ্ময় প্রকাশ করেন।
গ্রামের মুরব্বি মো. রফিক উদ্দিন (৭৫), আব্দুল ফাত্তাহ (৬০), তয়াহিদ আলী (৮০), শিক্ষক ময়নুল হক প্রমূখ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ওই দিন তারাও ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আজমল আলীসহ তার বাড়ির লোকজন ঘুমে থাকা অবস্থায় পাশের বাড়ির শিশু আলিম উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম আম কুড়াতে যায়। শিশু আলিম উদ্দিন ফার্মের কাছের বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এটা গ্রামের সকলেই জানে। দুর্ঘটনাকে চাপা দিয়ে কেউ যদি হত্যা চেষ্টার অভিযোগে কারো বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে, তবে নির্দ্বিধায় বলা যায়, কোন কুচক্রী মহলের ইন্ধনে হয়রানীর উদ্দেশ্যেই তা করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com