বড়লেখায় বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে স্কুল ফিডিং কর্মসুচির বিস্কুট !

আব্দুর রব॥ বড়লেখার বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে দারিদ্র পীড়িত এলাকার স্কুল ফিডিং কর্মসুচির বিনামূল্যের বিস্কুট! ‘সুজনের গাঁও গ্রাম রিং চিপস’ নাম দিয়ে সরকারী মনোগ্রামের এ বিস্কুট বড়লেখায় বাজারজাত করছে সুজন ফুড প্রোডাক্টস নামক নারায়নগঞ্জের একটি খাদ্য সরবরাহকারী কোম্পানী। দেশের দারিদ্র পীড়িত এলাকার স্কুলের শিক্ষার্থীদের অপুষ্টি রোধ ও স্কুলমূখী করার লক্ষে ভিটামিন ও খনিজ লবণে সমৃদ্ধ ‘জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসুচি’র বিনামূল্যের এ বিস্কুট সংশ্লিষ্ট কর্মসুচির আসাধু চক্র ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের না দিয়ে বাজারে বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা।
সরেজমিনে বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ‘জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসুচি’ বিক্রয়ের জন্য নয় লেখা ও বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম সম্বলিত বিশেষ লেমিনেটেড প্যাকেটে রিং চিপস প্রতি প্যাকেট ৫ টাকায় বিক্রয় হতে দেখা গেছে। প্যাকেটের গায়ে দেশের দারিদ্র পীড়িত এলাকার স্কুল ফিডিং কর্মসুচি লেখা দেখে অনেকের সন্দেহ হয় এ খাদ্যপণ্যটি বিক্রয়যোগ্য নয়। সুজাউল ফাজিল মাদ্রাসা ক্যান্টিনের ম্যানেজার জানান, ২৫ প্যাকেটের একবক্স তিনি বড়লেখা পৌরশহরের লোকনাথ ভেরাইটিজ ষ্টোর থেকে পাইকারী দরে কিনে প্রতি পিস ৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। তিনি কখনো এ চিপসের প্যাকেটের গায়ের সরকারী মনোগ্রাম ও অন্যান্য লেখা ভালভাবে পড়েননি। এখন মনে হচ্ছে এগুলো বিক্রয় করা তার সঠিক হয়নি। তিনি আর এ চিপস আনবেন না। লোকনাথ ভেরাইটিজ ষ্টোর ওই চিপসের ডিলার। অনেক দিন ধরে তারা বড়লেখায় বাজারজাত করছে।
স্থানীয় ডিলার বড়লেখা পৌরশহরের লোকনাথ ভেরাইটিজ ষ্টোরে গিয়ে বিপুল পরিমান এ জাতীয় চিপসের প্যাকেট মজুত থাকতে দেখা গেছে। ষ্টোরের স্বত্তাধিকারী হীরা লাল নাথ জানান, হেলাল উদ্দিন নামে কুলাউড়ার এক পরিবেশক এ চিপস বিক্রি করেন। তিনি গত ১৫ দিন ধরে তা বড়লেখায় বিভিন্ন দোকানে পাইকারী দরে সেল করছেন। এটি যে বিক্রয় যোগ্য নয় তা তিনি খেয়াল করেননি। আর এ মাল তুলবেন না।
স্কুল ফিডিংয়ের সরকারী চিপস (বিস্কুট) বিক্রয়কারী কুলাউড়ার পরিবেশক হেলাল উদ্দিন জানান, তিনি ঢাকার চক বাজার থেকে ক্রয় করে এ এলাকায় বিক্রয় করছেন। এগুলো বিক্রয়যোগ্য নয় বলে তিনি জানেন না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম আল ইমরান জানান, দেশের দারিদ্র পীড়িত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসুচির আওতায় সরকারের চালু করা এ বিস্কুট বাজারে বিক্রয়যোগ্য নয়। তিনি খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।



মন্তব্য করুন