পাউবো’র অনিয়ম সংশোধন না হলে লাঘাটা নদী খনন করতে দেয়া হবেনা—-ক্ষতিগ্রস্ত ৫ গ্রামবাসী

স্টাফ রিপোর্টার॥ পাউবো’র অনিয়ম সংশোধন না করলে রাজনগরে লাঘাটা নদী খনন করতে দেয়া হবেনা বলে ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত গোবিন্দপুর, আদমপুর, মশাজান, কামারচাক ও ইসলামপুর গ্রামবাসী।
মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত লাঘাটা নদীর খননকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইসরাত ইন্টারন্যাশনাল গ্রামবাসীদের আপত্তি উপেক্ষা করে নদীর গতিপথের স্থানচ্যুতি, উভয়তীরের অনেক বসতবাড়ীর বৃক্ষপূর্ণ ভূমি, ব্যক্তি মালিকানা ফসলী জমি ও কয়েকটি কবরস্থান কেটে নদীতে মিশিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে গত ২ মার্চ সোমবার এ ঘোষণা দিয়েছে গ্রামগুলোর বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হক সেলিম ঘটনাস্থলে পৌছে আপত্তিকর স্থানসমূহের খননকাজ স্থগিত রেখে পাউবো কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
খবর পেয়ে জেলাসদরের এ প্রতিনিধিসহ ৪ জন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ লোকজন সরেজমিন উপরোক্ত অবস্থা দেখিয়ে ঘটনার বিবরণ দেন। বিক্ষুব্ধ লোকজন জানান- অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লাঘাটা নদী খননকাজের কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেননি।
সর্বশেষ, আমরা এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করা সত্তেও পাউবো রহস্যজনক নিরবতা পালণ করছে। এতে প্রতীয়মান হয়, পাউবো তাদের মনগড়াভাবে লাঘাটা নদী খনন প্রকল্প প্রণয়ন করার কারণেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় এক্সেভেটর চালকরা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই, পাউবো এটা সংশোধন না করা পর্যন্ত এতদ এলাকায় খননকাজ করতে দেয়া হবেনা।
কামারচাক ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান ইসলামপুর গ্রামের মুরব্বী আব্দুল গফফার (মায়া) জানান- আপত্তি দিলে এক্সেভেটর চালকরা পুলিশ দিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখায়। গোবিন্দপুর গ্রামের মুরব্বী মোশাহিদ উদ্দিন জানান- ধানিজমি কাটতে আপত্তি জানালে এক্সেভেটর চালক আমার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবী করে। এর প্রতিবাদ করায় আমার বেশকিছু জমি কেটে ফেলেছে।
দেওয়ান পারওয়াজ আহমদ চৌধুরী, জাহিদ উদ্দিন, মুস্তাকিন আহমদ, বেলাল আহমদ, ইরাজ মিয়া, মঈনুদ্দিন আহমদ, আব্দুল হান্নান প্রমুখসহ শতাধিক ব্যক্তি জানান- আমাদের আপত্তি-অনুরোধ উপেক্ষা করে এক্সেভেটর চালক বহু পুরনো ও রেকর্ডীয় একাধিক কবরস্থান কেটে নদীতে মিশিয়ে দিয়েছে।
কামারচাক ইউপি’র বর্তমান চেয়ারম্যান নাজমুল হক সেলিম জানান- ইতিপূর্বে আমাকে কেউ এসব অবগত করেননি। বিষয়টি জেনে আমি কাজ বন্ধ করেছি এবং কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। সরেজমিনে ঘুরে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য- প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে লাঘাটা নদী খনন প্রকল্পে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ অংশ খননকাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইসরাত ইন্টারন্যাশনাল।
সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূমি জরিপী এসএ এবং আরএস নক্সা ও পাউবো’র লাঘাটা নদী খনন প্রকল্পের নক্সা মিলিয়ে দেখা গেছে- এসএ নক্সা ও আরএস নক্সাস্থিত লাঘাটা নদীর অবস্থান ও গতিপথের সাথে খনন প্রকল্পের নক্সাস্থিত লাঘাটা নদীর অবস্থান ও গতিপথের বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। পাউবো’র সংশ্লিষ্ট এসও মখলিছুর রহমান বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। সংশ্লিষ্ট জরিপী নক্সা অনুযায়ী খনন প্রকল্পের নক্সা প্রণয়ন না করার কারণেই মুল লাঘাটা নদীর অবস্থান ও গতিপথ থেকে খননকৃত লাঘাটা নদীর অবস্থান ও গতিপথ অনেকটা পরিবর্তন হয়ে গেছে। আর, এ পরিবর্তনের কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নদীর উভয়তীরের ভূমিমালিকরা। তাই, পাউবো’র খামখেয়ালীপনা, দায়িত্বহীনতা ও অনিয়মের কারণে সৃষ্ট এ সমস্যা সমাধান করতে হবে পাউবোকেই।



মন্তব্য করুন