মাদ্রাসা শিক্ষকের উপর হামলা ও শিক্ষার্থীদের মারধরের প্রতিবাদে রাজনগরের কালারবাজারে ছাত্রদের বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার এক মাদ্রাসা শিক্ষকের উপর হামলা করেছেন এক অভিভাবক। মারাত্বক আহত উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মাওঃ আব্দুল মুমিন (রামপুরী) এখন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘটনাটি গেল মঙ্গলবার ঘটলেও বেশি জানাজানি না হওয়াতে বিষয়টি অন্তরালে থেকে যায়। পরবর্তীতে ছাত্র-অভিভাবকের বিক্ষোভের মুখে ঘটনাটি খুলাসা হয়। এ ঘটনায় গেল শনিবার উপজেলার কালারবাজারে শিক্ষক আহতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় বইছে। জানা যায়, কালারবাজার সংলগ্ন কুশিয়ারা নদীর ওপাড়ে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার মুসলিমাবাদ (ডেকাপুর) আলীম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওঃ আব্দুল মুমিন ক্লাশ চলাকালীন সময়ে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বাহিরে আসতে দেখে কঞ্চি দিয়ে তাড়া করেন। ছাত্ররা হুজুরকে দেখে দৌড়ে ক্লাশে যাবার সময় অন্যান্য ছাত্রদের মত ডেকাপুর গ্রামের শেখ নজরুল’র মাদ্রাসা পড়ুয়া ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রের হাতে কঞ্চির আঘাত লাগে। পরবর্তীতে ঘটনাটি অভিভাবক নজরুল জেনে গেলে তিনি ক্ষেপে উঠেন। তাৎক্ষনিক বিষয়টি সমাধানে আব্দুল মুমিন মাদ্রাসার অন্য শিক্ষক মাওঃ আব্দুল লতিফ ও মাওঃ আতাউর রহমানকে নিয়ে শেখ নজরুলের পশ্চিম ডেকাপুরস্থ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় তার বাড়ির কাছাকাছি গেলে অতর্কিত ভাবে শেখ নজরুল দেশীয় কাঠের টুকরো দিয়ে তার মাথায় হামলা করলে তিনি ডান হাত দিয়ে প্রতিরোধ করেন। এসময় তার হাতের দুটি আঙ্গুলের অর্ধ্ব যায়গা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ও তার মাথায় চোঁঠ লাগে। তাৎক্ষনিক ওই দুই শিক্ষকসহ স্থানীয়রা তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করান। আহত মাওঃ আব্দুল মুমিন এ প্রতিবেদককে রোববার জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ক্লাশ চলাকালীন সময়ে ষষ্ঠ শ্রেনীতে শিক্ষক ছিলেনা। ওই সময়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাশের বাহিরে দৌড়াদৌড়ি করছিল। বাচ্চাদের হৈরহুল্লোর দেখে আমি কঞ্চি নিয়ে এগিয়ে যাই। কোনক্রমে অন্যান্য শিক্ষার্থীও মত ওই ছেলের হাতে কঞ্চির আঘাত লাগে। ওই দিন সন্ধ্যায় বিষয়টি মিটমাট করতে অভিভাবক শেখ নজরুল’র ডেকাপুরস্থ বাড়ির কাছাকাছি গেলে তিনি অর্তকিত হামলা করে তার ডান হাতের দুটি আঙ্গুল ভেঙ্গে দিয়েছেন। মাথায়ও জখম রয়েছে। তার হাতে অপারেশসহ হাড্ডিগুলোকে আগের যায়গায় আনতে রড লাগানো হয়েছে। এদিকে ওই ঘটনায় আহত আব্দুল মুমিন’র গ্রামের বাড়ি রাজনগর উপজেলায় ডেকাপুর মাদ্রসার অন্যান্য ছাত্র- অভিভাবকরা ক্ষেপে উঠেছেন। প্রতিবাদ জানিয়ে হামলাকারীর শাস্তির দাবী করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে মাাদ্রসা ছাত্র সংসদ’র সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ’র নের্তৃত্বে পাশ^বর্তী কালারবাজারে সাধারণ ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা’র আয়োজন করে। তারা হামলাকারীর শাস্থি দাবীসহ মাদ্রসা সুপার নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শিক্ষক মাওলানা কোহিনুর’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। মাদ্রাসা ছাত্র সংসদ’র সাধারণ সম্পাদক মামুনূর রশীদ বলেন, মাদ্রাসা সুপার নিয়োগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য সহকারি শিক্ষক কোহিনূর গেল শনিবার আমাদের চাপ দিয়েছিলেন। আমরা আন্দোলন না করাতে ওই শিক্ষকের সমর্থনকারী ছাত্ররা ক্লাশে থালা ঝুলিয়ে দিয়ে আমাদের মারধর করে বের কয়ে দেয়। পরে আমরা নদী পাড় হয়ে পাশের কালারবাজারে রামপুরী হুজুর’র উপর হামলাকারী ও মাওঃ কোহিনুর’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি। এ ব্যাপারে কথা বলতে মুসলিমাবাদ (ডেকাপুর) আলীম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওঃ আব্দুস সোবহান’র মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



মন্তব্য করুন