মসজিদে নামাজ পড়তে মুসল্লীদের বাঁধা, এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও উত্তেজনা

আউয়াল কালাম বেগ॥ রাজনগর উপজেলার গড়গাঁও এলাকায় একটি মসজিদে নামাজ পড়া সহ অণ্যান্য ধর্মীয় কাজে দীর্ঘদিন ধরে বাধা প্রদান করে আসছেন একই গ্রামের জয়নাল মিয়া। বিষয়টি কেন্দ্র করে এলাকার মুসল্লীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে, দেখা দিয়েছে উত্তেজনা।
২২ মার্চ রোববার সকাল ১১টার সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও মসজিদ কমিটির লোকজন সাংবাদিকদের কাছে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। এদিকে অভিযুক্ত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে এলাকাবাসী রাজনগর থানা ও মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগ ও মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়গাঁও গ্রামে গত ২০০৪ সালে একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয়। মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মসজিদের পাশের বাড়ির জয়নাল মিয়া ও তার স্ত্রী নামাজের সময় উচ্চস্বরে টেলিভিশন, ঢোল-করতাল ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নামাজে বাঁধা সৃষ্ঠি করে আসছেন। মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ অনেক অনুরোধ করেও তাকে এ কার্যক্রম থেকে নিবৃত্ত করতে পারেননি। এনিয়ে বেশ কয়েকবার স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যান সালিশ মিমাংশার উদ্যোগ নিয়েও কোন সুরাহা করতে পারেন নি। উপরন্তু সে বিভিন্ন সময় মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিদের গালাগাল, দেশীয় অস্ত্রদিয়ে আক্রমনের জন্য ধাওয়াকরে বলে এলাকারবাসীর অভিযোগ। গত ১৮ মার্চ জোহরের নামাজের সময় মসজিদের ইমাম মাও. তাফাজ্জুল হক অজু করে মসজিদে প্রবেশের সময় ইমামের ওপর লাঠি দিয়ে আক্রমনের চেষ্টা করে। এসময় উপস্থিত লোকজন তাকে আটকের চেষ্টা করলে তার স্ত্রী ও মেয়েরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাল্টা হামলা চালিয়ে হামলাকারী জয়নালকে নিয়ে যায়। এদিকে এ ঘটনার পরদিন আবারো জোহরের নামাজের সময় মসজিদের পাশে মুসল্লিদের গালাগাল ও উচ্চ স্বরে গান বাজাতে থাকে জয়নাল মিয়া। এসময় মুসল্লি ফয়ছল মিয়া এসব করা থেকে বিরত থাকার জন্য বললে জয়নাল ও তার স্ত্রী সন্তান সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আরো কয়েকজন এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারপিট করে। এতে আহত হন- ফয়ছল মিয়া (৪৫), সুজিনা বেগম (৩৫), রাসনা বেগমসহ (৪৫) সহ ৬ জন। এঘটনায় মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও জয়নাল মিয়া সেচ্ছায় নিজেদের ক্ষতি করে মসজিদের মুসল্লিদের ওপর হয়রানিমূলক মামলা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে মসজিদ কমিটির লোকজন জানান। উপস্থিত লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন ব্যাক্তি তার নিজের আত্মীয়-স্বজন সহ এলাকাবাসীকে হয়রানি করছে। ফলে মসজিদে নামাজ সহ ধর্মীয় কার্যক্রমপালন করে যাওয়া কঠিন হয়ে পরেছে।।
গত ২২ মার্চ রোবার সকালে সাংবাদিক ও উপস্থিত লোকজনের সামনে বক্তব্য রাখেন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেম্বার কায়েছ মিয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন আনা মিয়া, ইউনুছ হোসেন, অভিযুক্তের চাচাতো ভাই সুনিল মিয়া, ফয়ছল আহমদ প্রমুখ।



মন্তব্য করুন