রাজনগরে হতদরিদ্র শ্রমজীবিদের দুর্ভোগ চরমে : মানছেন না সামাজিক দুরত্ব

শংকর দুলাল দেব॥ রাজনগরে হতদরিদ্র শ্রমজীবি মানুষের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সামাজিক দুরত্ব ও অ’ঘোষিত লকডাউনে নৈমিত্তিক আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় বিপাকে পরেছে এসব পরিবার। সরকারি খাদ্য সহযোগিতা পর্যাপ্ত না থাকায় দরিদ্র শ্রেণির মানুষজন কাজের সন্ধানে মানছেন না সামাজিক দুরত্ব।
বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে জানাযায়, বিগত ১৭ মার্চ থেকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার নামে রাজনগরের খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষজন কর্মহীন হয়ে পরেছেন। অব্যাহত ভাবে কাজ বন্ধ থাকায় আর্থিক ভাবে অসহায় হয়ে পরা এসব লোকজন নিরুপায় হয়ে কাজের সন্ধানে ঘর থেকে বের হতে শুরু করেন। এদিকে ঘর থেকে বের হতে প্রশাসনের বাধা এবং পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা না পাওয়ায় চরম বিপাকে পরেছেন শ্রমজীবি এসব মানুষজন। কৃষি ও চা’বাগান অধ্যুষিত রাজনগর উপজেলার ২৬৮টি গ্রামের প্রায় ৪ লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় তিন চতুর্থাংশ দরিদ্র কৃষি ও শ্রমজীবি। এদের মধ্যে রাজনগরের ১২টি চা’বাগানে শ্রমিকদের কাজ অব্যাহত থাকলে করোনা প্রতিরোধে নেই কোন উদ্যোগ। বাগান কর্তৃপক্ষ করোনা প্রতিরোধক উপকরণ বিতরণের কথা বললেও শ্রমিকরা তা অস্বীকার করছেন এবং বিগত ৩১ মার্চ চা শ্রমিকরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য কর্মবিরতী ও সমাবেশ করে স্ববেতনে ছুটির দাবি করেন। এছাড়াও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও রাজনগরের ১৬টি বাজারের ক্রেতা সাধারণ মানছেন সামাজিক দুরত্ব। ফলে এসমস্থ এলাকায় একবার করোনার প্রকোপ শুরু হলে তা রোধ করা কঠিন হবে বলে সচেতন মহল মনে করছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাযায়, এখন পর্যন্ত কেউ করোনা আক্রান্ত না হলেও হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ১৯৭ জন। কাউয়াদীঘি হাওর পারের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের কৃষক জালাল আহমদ জানান, দীর্ঘদিন কর্মহীন অবস্থায় ঘরে বসে থাকায় আর্থিক দন্যতায় পরেছি। সংসার পরিচালনা করতে হলে কাজ করা ছাড়া আর উপায় নাই। করোনাকে ভয় করে কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে কতদিন অভূক্ত থাকবো।
এদিকে বর্তমান এ পরিস্থিতে রাজনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান খান ব্যাক্তিগত উদ্যোগে ১হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তার ঘোষনা দিয়েছেন। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মনসুরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মিলন বখত, মুন্সিবাজার ইউপি চেয়ারম্যান সালেক মিয়া, টেংরা ইউপি চেয়ারম্যান টিপু খান সহ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস সূত্রে জানাযায়, বৈশ্বিক পরিমন্ডল ঘুরে বংলাদেশ ব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর এই দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি মানুষকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ঘরে অবস্থানের জন্য বলা হয়। এরই ধারবাহিকতায় রাজনগরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভাইরাসটি যাতে প্রতিরোধ করা যায় এজন্য প্রতিদিন মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচারণা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অসহায় ১২শ পরিবারকে ১০ কেজি করে ১২মেঃ টন চাল ও নগদ ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়। বর্তমানে আরো ৩২ মেঃ টন চাল ও নগদ ৩২ হাজার ৫শ টাকা বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। যা ৩ হাজার ২শ পরিবারের মধ্যে বন্ঠন করা হবে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) উর্মি রায় জানান, করোনার মত মহাদুর্যোগ থেকে বাঁচতে হলে এবং এর বিস্তার রোধ করতে হলে অবশ্যই সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং প্রত্যেক মানুষকে ঘরে থাকতে হবে। তিনি আরো জানান, চার বারে মোট ৪৪ মেঃটন চাল ও নগদ ৮২ হাজার ৫শ টাকা বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। যা ৪ হাজার ৪শ পরিবারের মধ্যে বিতরণ অব্যাহত আছে।



মন্তব্য করুন