রাজনগরে ১০ টাকা মূল্যের চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ

April 10, 2020,

শংকর দুলাল দেব॥ রাজনগরে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর (ওএমএস) আওতায় হতদরিদ্রদের কাছে বিক্রির জন্য ১০ টাকা মূল্যের চাল বিক্রিতে ফের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের মধুর দোকানের জহিরুল ইসলাম সুমন নামের এক ডিলার জনপ্রতি বরাদ্দের তুলনায় ক্রেতাপ্রতি ৩ হতে ৪ কেজি চাল কম দিচ্ছেন। গত মার্চ মাসেও উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকার ডিলারের বিরোদ্ধে চাল বিক্রির অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল।
রাজনগর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির (ওএমএস) এর আওতায় একেক জন হতদরিদ্রকে ১০ টাকা কেজি মূল্যে ৩০০ টাকায় ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ ওঠে উপজেলার মধুর দোকান এলাকার ডিলার জহিরুল ইসলাম সুমন এই চাল বিক্রিতে জনপ্রতি ৩ হতে ৪ কেজি করে কম দিচ্ছেন। উপকারভোগীদের কয়েকজন চাল কিনে অন্য দোকানে পরিমাপ করে দেখেন চাল পরিমানে কম রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে গত ৯ এপ্রিল মঙ্গলবার এক অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ দেন। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ওই ডিলার দোকান বন্ধ করে সটকে পড়েন। এদিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস থেকে ওসি (এলএসডি) চন্দ্রসেন রায় গিয়ে কয়েকজন উপকারভোগীর চাল পরিমাপ করে কারো বস্তায় ২৬ কেজি আবার কারো বস্তায় ২৭ কেজি রয়েছে দেখেন। বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ঊর্মি রায়, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুন নূর, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক শাকির আহমদ খান সহ রাজনগর থানার পুলিশ নিয়ে দ্রুত ঐ এলাকায় যান। তারা ডিলারকে খবর দিয়ে এনে দোকান খুলে বাকী চালের বস্তা গুলো মেপে দেখেন সেগুলোতেও কম রয়েছে। এসময় যেসব বস্তায় কম রয়েছে সেসব বস্তায় ৩০ কেজি পূর্ণ করে উপকারভোগীদের কাছে বিক্রি করতে ওই ডিলারকে নির্দেশ দেন। তবে উপজেলা খাদ্য বান্ধব কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই ডিলারের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়। গত মার্চ মাসেও উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকার ডিলারের বিরোদ্ধে চাল বিক্রির অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল।
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আব্দুন নূর বলেন, চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) ঊর্মি রায় জানান, অভিযোগ পেয়ে আমি সহ খাদ্য নিয়ন্ত্রক ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পেয়েছি। এই কার্যক্রম যাতে বন্ধ না থাকে এবং উপকারভোগীরা যাতে এই চাল প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হন এ কথা বিবেচনা করে ওই ডিলারকে আপাতত পুরো ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করতে নির্দেশ দিয়েছি। এবং ১০ এপ্রিল বিকাল ৩টায় এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটির সভা কল করেছি। এ সভার সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী তার বিরোদ্ধে যথাযত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com