বড়লেখায় সংখ্যালঘু যুবকের ওপর হামলার এক সপ্তাহ পরও থানায় মামলা রেকর্ড হয়নি

বড়লেখা প্রতিনিধি॥ বড়লেখায় সরকারী উন্নয়ন কাজে বাঁধা দানকারীদের প্রতিবাদের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত সংখ্যালঘু যুবক নকুল দাস বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে রিলিজ পেয়েছে। হামলার ঘটনার এক সপ্তাহ পরও থানায় মামলা রেকর্ড হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে উভয় পক্ষ আপস মীমাংসায় সম্মত হওয়ায় মামলা রেকর্ড হয়নি।
এলাকাবাসী ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের সুনামপুর গ্রামের নুর উদ্দিনের বাড়ির সম্মুখের পাকা রাস্তা হতে সাহাব উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় কর্মসৃজন প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ করান ইউপি মেম্বার রুহুল আমিন বাহার। কাজ চলাকালিন ১৪ জুন গ্রামের চেরাগ আলি, সায়ফুর রহমান গংরা মাটি শ্রমিকদের বাঁধা দেন। এসময় বাঁধা দানকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হন নুর উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা মইন উদ্দিন, নকুল দাস। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারী চেরাগ আলীকে আটক করে। সরকারী কাজে বাঁধা না দেয়া ও আহতদের ক্ষতিপুরনের অঙ্গিকারে ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিনের জিম্মায় চেরাগ আলি থানা থেকে ছাড়া পান। এর জের ধরে গত ১৫ জুলাই রাতে মহারাণী গ্রামের আলা উদ্দিন মিয়ার বাড়ির সামনের রাস্তায় সংখ্যালঘু নকুল দাসকে (২৫) একা পেয়ে চেরাগ আলি, তার ছেলে সায়ফুর রহমান, সহযোগি দেলোয়ার হোসেন, সোহেল আহমদ, সুমন আহমদ, শিবলু আহমদ, শাহ আলম প্রমুখ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে উদ্ধার করে রাতেই বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি ঘটায় নকুলকে সিলেট ওসমানীতে স্থানান্তর করা হয়। এ হামলার ঘটনায় আহতের চাচা নগেন্দ্র চন্দ্র দাস হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত মামলা করেন। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করলেও এক সপ্তাহ পরও মামলা রেকর্ড করেনি।
তদন্তকারী পুলিশ অফিসার এসআই স্বপন চন্দ্র সরকার ২২ জুলাই শুক্রবার বিকেলে জানান, তিনি ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করেছেন। উভয় পক্ষ স্থানীয়ভাবে আপস মীমাংসায় সম্মত হওয়ায় এখনও মামলা রেকর্ড হয়নি।
অভিযোগকারী নগেন্দ্র চন্দ্র দাস জানান, সুবিচার না পাওয়ার আশংকায় তিনি আপস মীমাংসা মানছেন না। বারবার থানায় ধর্ণা দেয়া স্বত্ত্বেও পুলিশ মামলা রেকর্ড করছে না।



মন্তব্য করুন