প্রতিপক্ষের হা/মলা/য় আ/হত তিন জন, আদালতে অভিযোগ দায়ের

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : ‘আমরা গরীব মানুষ। সরকারি খাস জমিতে চাষাবাদ করে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমাদের বসতঘর থেকে উচ্ছেদ করে দখল করার জন্য আমাদেরই আপন চাচাতো ভাই মাসুক মিয়া ও তার লোকজন দীর্ঘদিন যাবত পায়তারা করে আসছে। ২৫ মে দুপুর ২টার দিকে মাসুক মিয়ার নেতৃত্বে সুমন মিয়া, কাওসার মিয়া, আলাউদ্দিন মিয়া ও আনোয়ার মিয়া আমাদের তিন ভাইকে ধারলো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, সিলেট ও ঢাকায় চিকিৎসা নিয়েছি। চিকিৎসার পর বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় লোকজনের কাছে জানতে পারি আমার চাচাতো ভাই মাসুক মিয়ার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমাদের বাড়িঘর ও জমি দখল করে রেখেছে। নিরাপত্তার কারনে এখন বাড়িতেও যেতে পারছি না। তাদের ভয়ে বর্তমানে অনেকটা আত্মগোপনে রয়েছি। মঙ্গলবার ২৪ জুন বিকেলে প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৪ নম্বর সিন্দুরখান ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রাম জাম্বুরাছড়ার বাসিন্দা দিনমজুর আব্দুর রহিম।
এ ব্যাপারে দিনমজুর আব্দুর রহিম ২৪ জুন মাসুক মিয়া, সুমন মিয়া, কাওসার মিয়া, আলাউদ্দিন মিয়া ও আনোয়ার মিয়াকে আসামি করে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিসিয়্যাল ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আমল আদালতে ফৌজদারী নালিশা দরখাস্ত দায়ের করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বিবাদীরা বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িত। তারা দীর্ঘদিন যাবত আমাদের বসতগৃহ জোরে বলে দখল করার জন্য বিভিন্ন ধরণের পায়তাার করে আমাদের হুমকি প্রদর্শন করে আসছে। গত ২৫ মে বিবাদীরা আমাদের বাসতগৃহের সামনে এসে আমাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমি ঘর থেকে বের হয়ে তাদের গালিগালাজ না করতে বলা মাত্র তারা আমার উপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমার মাথা, বাম হাত, উরুসহ পুরো শরীর রক্তাক্ত জখম হয়। আমাকে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে আমার ভাই আব্দুস সালাম, আব্দুল মতিন এগিয়ে আসলে তাদের উপরও হামলা চালানো হয়। তারাও রক্তাক্ত জখম হন। আমাদের সম্মিলিত আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আমাদের উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমাকে ও আমার ভাই আব্দুল মতিনকে গুরুতর আহতাবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখান থেকে আমাদের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে চিকিৎসক সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসা গ্রহণের পর আমাকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয় এবং আমার ভাই আব্দুল মতিনকে ঢাকা চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখনও তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। আমি হাসপাতাল থেকে বাড়ি আসার পথে জানতে পারি আমার চাচাতো ভাই মাসুক মিয়ার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমাদের বাড়িঘর ও জমি দখল করে রেখেছে। নিরাপত্তার কারনে এখন বাড়িতেও যেতে পারছি না। তাদের ভয়ে বর্তমানে অনেকটা আত্মগোপনে রয়েছি। এঘটনায় দোষীদের আমি উপযুক্ত বিচার চাই।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাসুক মিয়ার মুঠোফোনে দুইবার কল করার পর রিং বাজলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এরপর ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।



মন্তব্য করুন