বাংলাদেশের চিকিৎসা: দক্ষতা আছে, আন্তরিকতার ঘাটতি বেশি

November 29, 2025,

বশির আহমদ : আমাদের দেশের ডাক্তারদের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে সন্দেহ নেই-অনেকেই আন্তর্জাতিক মানের। কিন্তু বড় সমস্যা হলো মানবিকতা ও আন্তরিকতার অভাব।

অতিরিক্ত রোগী দেখার চাপ, আয় বাড়ানোর প্রতিযোগিতা, রোগীর কথা না শোনা-এসব কারণে চিকিৎসা সেবা ক্রমেই দূরূহ হয়ে উঠছে। একজন রোগীর লাইফস্টাইল বা পূর্ব চিকিৎসা ইতিহাস শোনার মতো সময় অনেক ডাক্তার রাখেন না। শুধু টেস্ট রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে প্রেসক্রিপশন দেওয়া এখন সাধারণ বিষয়।

কিন্তু সমস্যা হলো-জেলা উপজেলা পর্যায়ের টেস্ট মেশিনগুলো প্রায়ই পুরনো ও নিম্নমানের এবং  টেকনিশিয়ানের দক্ষতাও কম। ফলে রিপোর্ট ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে, আর সেই ভুল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসায় রোগীর ক্ষতি হয়। ডাক্তার সাহেবগন নিজে চিন্তা করে রোগ নির্নয়ের মনমানসিকতা রাখেন না।

এর সাথে যোগ হয়েছে কিছু ডাক্তারদের ঔষধ কোম্পানির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা। যে কোম্পানি বেশি গিফট দেয়-তারাই প্রাধান্য পায়, ঔষধ ভালো হোক বা না হোক।

ভিজিট ফি-এমডি/এফসিপিএস ডাক্তারদের ক্ষেত্রে ১০০০/২০০০ টাকা; রিপোর্ট দেখাতে কোন কোন চেম্বারে  আবার ৫০০ টাকা। অথচ রোগীর সাথে কথা বলার সময় নেই, অনেক ডাক্তার নিজে ব্যাখ্যাও করেন না-পিয়নকে দিয়ে বুঝিয়ে দেন!

অন্যদিকে বিদেশের ডাক্তাররা রোগীকে সময় দেন-২০ থেকে ৬০ মিনিট পর্যন্ত। রোগীকে শোনেন, মানসিকভাবে প্রস্তুত করেন, ভয় না পেতে সাহায্য করেন। রিপোর্ট নির্ভুল, ঔষধ মানসম্মত, আর রোগীর ইতিহাস কম্পিউটারে সংরক্ষণ থাকে।

আমার প্রশ্ন-

আমাদের ডাক্তাররা কেন মানবিকতা হারাচ্ছেন?

কেন রোগীর প্রতি দরদ কমে যাচ্ছে?

কেন রাত ৩৪টা পর্যন্ত রোগী দেখে ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি বাড়ানো হচ্ছে?

অনুরোধ-

দেশের ডাক্তারগণ, আরও মানবিক হোন। রোগীর কথা শুনুন, সময় দিন।

স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসা নয়-এটি সেবা।

আপনাদের আন্তরিকতার মাধ্যমেই দেশের মানুষ দেশেই স্বস্তিতে চিকিৎসা নিতে পারবে।

লেখক পরিচিতি : বশির আহমদ, মৌলভীবাজার।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com