আন ফানাই নদীর খাল খননে সুফল পাবে হাকালুকি হাওর তীরের ১৫ গ্রামের কৃষক

May 17, 2026,

মাহফুজ শাকিল : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় হাকালুকি হাওরের আন ফানাই নদীর চকিরমোড়া এলাকা থেকে উত্তরমুখী আন ফানাই পর্যন্ত দুই কোটি ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে খাল খননের কাজ রবিবার ১৭ মে সকাল থেকে শুরু হয়েছে। এ কাজ বাস্তবায়ন হলে হাকালুকি হাওর তীরের তিন ইউনিয়নের প্রায় ১৫ টি গ্রামের কৃষক, মৎস্যজীবিসহ কয়েক হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। এর আগে গত ১৪ মে এ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম শকু। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তারসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে কাজ শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি মহল অন্য এলাকার একটি ছবিযুক্ত করে কাজে অনিয়মের অভিযোগ এনে অপপ্রচার চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায়। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক সমালোচনা শুরু হয়।

সরেজমিনে রবিবার দুপুরে প্রকল্প এলাকা আন ফানাই নদীর চকিরমোড়ায় গিয়ে দেখা যায়, হাকালুকি হাওর তীরবর্তী ফানাই নদীর পাশে ভরাট হওয়া অব্যবহৃত আন ফানাই নদীর খাল খননের কাজ চলছে। এসময় স্থানীয় ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, পিআইও অফিসের লোকজনসহ এলাকাবাসী উপস্থিত থেকে কাজটি তদারকি করতে দেখা গেছে। এই খালের উভয়পাশে ভূকশিমইল, বরমচাল ও ভাটেরা ইউনিয়নের মানুষের হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি রয়েছে। খালটি খনন হওয়ার পর এতদ অঞ্চলের কৃষকদের দুর্ভোগ লাগব হবে এবং মাছের উৎপাদন বাড়বে।

প্রকল্প এলাকায় দেখা হয় স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহেদ আহমদ, আতিকুর রহমান শান্তি, কৃষক আকমল আলী ও লোকমান আহমদের সাথে। তারা বলেন, এই খাল খনন এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। মাননীয় সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম মহোদয়ের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় বর্তমান সরকারের মাধ্যমে এ কাজ বাস্তবায়নের পথে। কিন্তু দুঃখের বিষয় একটি মহল এই উন্নয়ন কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। কাজ শুরু হওয়ার দুই দিন আগে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাল খনন নিয়ে অপপ্রচার চালায়। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তারা আরো বলেন, প্রতিবছর খরা মৌসুমে বোরো আবাদের সময় পানির জন্য কৃষকদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পানির অভাবে অনেক কৃষকের ধানের ভালো ফলন হয়না। কাজটি বাস্তবায়ন হলে তিন ইউনিয়নের প্রায় সহস্রাধিক কৃষক অনেক উপকৃত হবেন। কাজটি সঠিকভাবে যাতে বাস্তবায়ন হয় সেজন্য আমরা এলাকার পক্ষ থেকে সোচ্চার রয়েছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পাল বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের বাস্তবায়নে কুলাউড়ার ভূকশিমইল, বরমচাল ও ভাটেরা ইউনিয়নের প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খনন প্রকল্পে ৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার খননের জন্য দুই কোটি ছয় লাখ তিন হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। রবিবার সকাল থেকে এ খনন কাজ শুরু হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় সময়মত খনন কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। আগামী জুন মাসের ভিতরে কাজটি শেষ করার কথা রয়েছে। কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সার্বক্ষণিক তদারকি রয়েছে।

ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রকল্প চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির বলেন, খাল খনন কাজ সম্পন্ন হলে হাওর তীরের তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক ও মৎস্যজীবি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে ভূকশিমইল ইউনিয়নের জাবদা, কালেশার, মুক্তাজিপুর, শশারকান্দি, বাদে ভূকশিমইল, বরমচাল ইউনিয়নের মহলাল, মাধবপুর, আলীনগর, রাউৎগাঁও, ভাটেরা ইউনিয়নের শাহমীর, হরিপুর, খামাউড়াসহ প্রায় ১৫টি গ্রামের কৃষক এর  সুফল ভোগ করবেন। এছাড়া প্রতিটি গ্রামের ছোট খাল ও বিলের জমাটবদ্ধ পানি নিষ্কাশনেও সহজ হবে। বিশেষ করে হাওর এলাকায় বোরো মৌসুমে কৃষকরা পর্যাপ্ত পানি সুবিধা পাবেন এবং মাছের উৎপাদনও বাড়বে। তিনি আরো বলেন, সরকারের এ উন্নয়ন কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে একটি গোষ্ঠী নানা অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com