কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গু/লিতে নি/হ/ত বাংলাদেশি যুবকের লা/শ ৩৯ ঘন্টা পর হস্তান্তর

August 10, 2026,

স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত তারা মিয়ার লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সে কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে।

সোমবার সাড়ে ৫টায় আইনী প্রক্রিয়া শেষে বিএসএফ এর পক্ষে ১৯৯ বিএসএফ ব্যাটলিয়ন মাগুরুলী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি রোহিত ও ৪৬ বিজিবির পক্ষে আলীনগর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম লাশ হস্তান্তরে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া কুলাউড়া থানার ওসি জহুরুল ইসলাম মুন্না ও ভারতের ইরানী থানার ওসির শ্রীকান্ত চক্রবত উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার পর কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে সহ কয়েকজন পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর শিকরিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের মাগুরুলী এলাকায় চোরাই পণ্য আনতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন। এসময় বিএসএফ ১৯৯ ব্যাটালিয়নের মাগুরুলী ক্যাম্পের টহল দল তাদের গতিরোধ করার চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। এসময় তার সঙ্গে থাকা বাকি সহযোগীরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপ করেন। পরে বিএসএফ লাশ ভারতের ঊনুকুটি হাসপাতালে মর্গে নিয়ে রাখে।

কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, দুই দেশের মধ্যে আইনী প্রক্রিয়া শেষে চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীর পুলিশ সোমবার বিকেলে কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে তারা মিয়ার মরদেহ হস্তান্তর করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে নিহতের মরদেহ হস্থান্তর করা হয়েছে।

নিহত তারা মিয়ার মাতা আজিরুন্নেছা বলেন, আমার ছেলে কখনো চোরাকারবারে জড়িত ছিলনা। টাকার লোভ দেখিয়ে আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় স্থানীয় সুমনসহ কয়েকজন লোক। তখন বাঁধা দিলে ছেলে কথা শুনেনি। পরে তারা ভারতে ঢুকে পড়লে বিএসএফ আমার ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেললো। আমার বুকটা খালি হই গেল।’

বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, বাংলাদেশি তরুণ তারা মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকে তাঁদের পক্ষ থেকে বিএসএফের কর্মকর্তাদের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দুই দেশের পতাকা বৈঠকের পর নিহত তরুণের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত তরুণ চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর স্বজনেরাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় কিছু উঠতি বয়সী তরুণ-যুবকরা অপরাধ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছে। এসব কার্যক্রম বন্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয় লোকদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। আগামীতেও এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার বাড়ানো হবে। সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারিতে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com