কমলগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ সন্তানকে হ/ত্যা, পিতার মৃ/ত্যু/দ/ন্ড

স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রতিপক্ষ চাচাতো ভাইকে ফাঁসাতে গিয়ে সাড়ে ৩ বছরের নিজ শিশুকন্যা রুনা বেগমকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার অভিযোগে পিতা শরীফ আলীকে মৃত্যুদন্ডÍ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার দুপুরে এই মামলার রায় দেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো: আনোয়ারুল হক।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাদী নেকজান বিবি, সাড়ে ৩ বছরের সন্তান রুনা বেগম, ছয় বছরের মেয়ে সুমা বেগমকে নিয়ে খাটের উপর ঘুমান। অপর দিকে সন্তানের পিতা মো: শরীফ আলী আট বছরের মেয়ে রীমা বেগম ও দুই বছরের ছেলে মাহবুবুর রহমান ইমন, প্রতিবন্ধী সন্তান ইমরান হোসেন ও মা লতিফা বেগমকে নিয়ে মেঝেতে ঘুমান। মধ্যরাত অনুমান ৩টার দিকে সন্তানের মা নেকজান বিবি হঠাৎ ঘুম ভাংলে দেখতে পান তার স্বামীর হাতে রক্ত মাখা ছুরি। এসময় শরীফ আলী তার স্ত্রীকে বলে কেই কিছু জিজ্ঞাস করলে বলবা প্রতিবেশী চাচাতো ভাই ছালেকের নাম। পরে ঘাতক শরীফ ঘরের পাশে ধান ক্ষেতে ছুরি ফেলে অজ্ঞান হয়ে পরে। এসময় স্ত্রী নেকজান বিবি চিৎকার করলে এলাকাবাসী ও খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে আসেন।
মূলত কমলগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ভানুবিল গ্রামের শরীফ আলী তার প্রতিবেশী ও চাচাতো ভাই ছালেক মিয়াকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজের সাড়ে তিন বছরের কন্যা রুনা বেগমকে মধ্যরাতে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা কেটে হত্যা করেন। এঘটনায় ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ইংরেজি দুপুর সোয় ২ টায় মেয়ের মা নেকজান বিবি কমলগঞ্জ থানায় একমাত্র আসামী তার স্বামীকে করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে শিশু সন্তানের পিতা শরীফ আলী আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
এদিকে পরিকল্পিত ও চাঞ্চল্যকর এই হত্যা কান্ডের দীর্ঘ ১২ বছর পর সোমবার ২৪ আগস্ট মামলার রায়ে পিতা শরীফ আলীকে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৭৩ ধারানুযায়ী দীর্ঘ শুনানীর পর মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করে অতিরিক্ত দায়রা ও জজ দ্বিতীয় আদালত মৌলভীবাজার। আসামীকে পরে কোটের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ হয়।
পিতা কর্তৃক নিজ সন্তান হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিটর, এডভোকেট তোফায়েল আহমদ। আসামী পক্ষের মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট মোঃ আব্দুস সামাদ মিন্টু।



মন্তব্য করুন