খুচরা ও পাইকারী চাল ব্যবসায়ীরা লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

সাইফুল ইসলাম॥ মৌলভীবাজার জেলার সবকটি উপজেলার চাল ব্যবসায়ীদের বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্স নেওয়ার জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে নোটিশ জারি করেছে হাট বাজার গুলোতে। এতে হাটবাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে খুচরা চাল ব্যবসায়ীরা লাইসেন্স নেওয়ার প্রক্রিয়া তারা জানেন না।
জানা যায়, ১৯৫৬ সালের কন্টোল অব কমোডেটিস অ্যাক্ট অনুযায়ী খাদ্যশস্য ও খাদ্য সামগ্রী ব্যবসার লাইসেন্স গ্রহন সম্পর্কিত আদেশের আলোকে খাদ্য অধিদফতর থেকে ফুড গ্রেইন লাইসেন্স গ্রহন করার জন্য আদেশক্রমে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
জেলার হাট-বাজার গুলোতে খুচরা চাল ব্যবসায়ীরা ৩০ অক্টোবরের মধ্যে লাইসেন্স করা বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
মৌলভীবাজার খুচরা চাল ব্যবসায়ী রণজিৎ পাল বলেন,‘লাইসেন্স করা লাগবো কি লাগবো না তা বুঝার দরকার আছে। আমি লাইসেন্স কোনদিন করি নাই। লাইসেন্স করতে আমার বা কত টাকা লাগবে তা আমার জানা নেই। তবে তিনি বলেন, খাদ্য অধিদপ্তর থেকে লোকজন আসছিল লাইসেন্স নেয়ার জন্য। লাইসেন্স করা ভাল বলে মনে করেন। কিন্তু বাজারে চালের দাম নেমে গেছে,ব্যবসা মন্দা।’
শ্রীমঙ্গল সেন্টাল রোডের খুচরা ও পাইকারী চাল ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, ‘আড়তদারদের কাছ থেকে চাল কিনে বিক্রি করি। তার পরও লাইসেন্স করেছি।’
মৌলভীবাজার চাল ব্যবসায়ী হালিম আহমেদ ও সোহেল আহমদ খাদ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে লাইসেন্স করার নির্দেশ দিয়েছেন ভাল কথা। আমরা পৌরসভার ট্রেডলাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আমরা লাইসেন্স নিয়া কিতা করতাম। চালের বাজার ডাউন। আমরা তো কোনদিন এসব লাইসেন্স করছি না। আমরার সভাপতি আছিলেন প্রয়াত সৈয়দ মহসীন আলী সাহেব। তিনি মারা যাওয়ার কারণে উনার স্ত্রী সায়রা মহসীন এমপি আমাদের দেখ শোন করেন। আমরার যেকোন সমস্যা তিনি দেখেন। চাল ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, বড় বড় ব্যবসায়ী আর অটোমেটিক রাইস মিলের মালিকদের লাইসেন্স আরও কঠিন করা দরকার। ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স করা দরকারও পড়ে না। তার পরও সরকারের নির্দেশনা লাইসেন্স করলে সরকার রাজস্ব আয় হবে বলে তারা মনে করেন।’
শ্রীমঙ্গল সেন্টাল রোডের সুচিত্রা এন্টার প্রাইজের পরিচালক তুষার দেব বলেন,‘চালের দাম বাড়ায় আমি দোকানে চাল উঠাইনি। কাষ্টমার বেশি দামে চাল কিনতে নারাজ। এখন আবার চালের দাম নেমে যাওযায় দোকানে মাল উঠাইতেছি না। আরো একটু দাম বাড়লে পুরোদমে ব্যবসা শুরু করবো।’
মৌলভীবাজার খাদ্য অফিসের কর্মকর্তা মনোজ কান্তি দাস চৌধুরী বলেন,‘জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের খাদ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ রয়েছে হাট বাজার গুলোতে খুচরা পাইকারী ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স গ্রহন করতে দোকান গুলোতে তালিকা তৈরি করে নোটিশ জারী করার। লাইসেন্স গ্রহন করার জন্য আমরা প্রথম দফা ও দ্বিতীয় নোটিশ দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় ৪১৯টি লাইসেন্স রয়েছে। আজ বুধবার মৌলভীবাজার জেলা সদর ৫টা, কুলাউড়া উপজেলা থেকে ৮টা,জুড়ী উপজেলা থেকে ১টা লাইসেন্স এর আবেদন জমা পড়েছে। খুচরা লাইসেন্স প্রতি ২৫০০ টাকা ও পাইকারী লাইসেন্স ৫০০০টাকা খচর হবে। লাইসেন্স গ্রহনের পর প্রতি মাসে ১৫ দিন পর পর তদারকি অব্যাহত থাকবে। প্রতি বছর ৩০ জুন থেকে ৩০ জুন লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে।’



মন্তব্য করুন