মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৬ শিক্ষকের পদ শূন্য

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদের সংখ্যা ৫২। সহকারী শিক্ষকের পদ ৪৯। কর্মরত আছেন ৩৩ জন। সহকারী শিক্ষকের ১৬ পদ শূন্য। প্রভাতী ও দিবা শাখায় মিলিয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৫৫৪ জন। প্রতি শিফটে ১৩টি শাখা। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে শ্রেণি কার্যক্রম। সর্বশেষ একজন সহকারী শিক্ষক মাউশি থেকে নিয়োগ দিলেও তিনি যোগদান করেননি। প্রেষণে যারা ছিলেন তারাও রিলিজ নিয়েছেন।
মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর প্রচ- প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। অভিভাবকদের আশা থাকে এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে মানসম্মত শিক্ষা পাবে শিক্ষাথীরা। তাই সব অভিভাবকেরই প্রথম পছন্দ থাকে এই প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই বিদ্যালয়ে সঠিকভাবে ক্লাস হয় না এমন অভিযোগ শিক্ষক এবং অভিভাবকের তরফ থেকে করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং অভিবাবক জানিয়েছেন শিক্ষক কম থাকায় প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্লাস হয় না। ছাত্ররা এসে শুধু শুধু সময় ক্ষেপণ করছে। কখনো এক বিষয়ের শিক্ষক অন্য বিষয়ে পাঠদান করছেন। গালগল্প করে সময় পার করছেন। এতে সুষ্ঠু পাঠদান হচ্ছে না।
শিক্ষার্থীদেরও মনোযোগ থাকে না ক্লাসে। স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতা বিরাজ করছে। প্রভাতি ও দিবা এই দুই শিফটে পাঠদানের জন্য প্রধান শিক্ষকসহ অনুমোদিত শিক্ষকের পদ হচ্ছে ৫২টি। প্রধান শিক্ষক ও দু’জন সহকারী প্রধান শিক্ষক আছেন। তবে ৪৯ সহকারী শিক্ষকের পদের মধ্যে ১৬টি পদই শূন্য।
এই ১৬টি শূন্য পদ ছাড়াও সাময়িক বরখাস্ত ১ জন, বিএড প্রশিক্ষণে আছেন ৪ জন। এতে বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২১ জন শিক্ষকের শূন্যতা বিরাজ করছে। শূন্য পদগুলো হচ্ছে বাংলা বিষয়ে ৪ জন, ইংরেজি বিষয়ে ৩ জন, ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ে ১ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ জন, ভূগোল বিষয়ে ২ জন এবং চারুকলা বিষয়ে দুটি পদের ২টিই শূন্য।
এই শিক্ষক সংকটের কারণে প্রভাতি ও দিবা এই দুই শিফটেই পাঠদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক সবকটি শ্রেণি-কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে অনেক সময় এক বিষয়ের শিক্ষক অন্য বিষয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। পাঠদানকারী শিক্ষক তার বিষয়ের বাইরে অন্য বিষয়ে প্রস্তুতি বা বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় কোনোরকম সময় ক্ষেপণ করে শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া শিক্ষক স্বল্পতার কারণে এ ও বি এই দুটি শাখা (সেকশন) কে একত্রিত করে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বিভাগে ৬০ জন করে শিক্ষার্থী রয়েছে। একত্রিত করায় একটি ক্লাসে ছাত্রের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১২০ জন। এরমধ্যে ৯০ থেকে ১১০ জনের মতো উপস্থিত থাকছে। এতসংখ্যক শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে স্বাভাবিক পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। সংগত কারণে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে পাঠে মনোসংযোগ দিচ্ছেন কম। এতে একদিকে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত পাঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে শ্রেণি-কার্যক্রমের প্রতি তারা আগ্রহ হারাচ্ছে।
মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফজলুর রহমান শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শিক্ষক স্বল্পতার কারণে ক্লাস নিয়ে প্রচ- চাপে আছি। এতে করে শ্রেণি-কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় এক বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে অন্য বিষয়ের ক্লাস নেয়া হচ্ছে। দুই সেকশনের ক্লাস একসঙ্গে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষক-সংকটের বিষয়টি জানিয়েছি।



মন্তব্য করুন