প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে লাছ নদী : স্থানে স্থানে খাঁটি বসিয়ে মাছ আহরণ

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার লাছ নদী প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। নদী তীরের জনসাধারণকে নদীতে মাছ ধরার আপত্তি জানিয়ে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করছে একটি মহল। এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে নদী তীরের বাসিন্দাদের মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১০/১২ কিঃ মিঃ দৈর্ঘ্য লাছ নদী সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের ঢলাইঢর থেকে উৎপত্তি হয়ে কাউয়াদীঘিতে পতিত হয়েছে। তিনটি ইউনিয়নে পানি উক্ত লাছ নদী দিয়ে হাওরে নামে। নদীটি মাছের অন্যতম চারণ ক্ষেত্র বলে স্থানীয়দের কাছে গণ্য।
জানা গেছে, নদীর শেষ অংশ বদ্ধ জলাশয় হিসেবে জেলা প্রশাসন থেকে মেয়াদ ভিত্তিক ইজারা প্রদান করা হয়। বাকী ৬/৭ কিঃ মিঃ দীর্ঘ লাছ নদী মুক্ত জলাশয় হিসেবে বয়ে গেছে। নদীর আশপাশ গ্রামের জনসাধারণ দীর্ঘ দিন যাবত বর্ষা মৌসুমে নদীতে মাছ ধরে আসছে। কিন্তু গত ৪/৫ বছর ধরে ঘটছে বিপত্তি। নদীর পানিতে ভাটার টান ধরলে স্থানে স্থানে প্রভাবশালী মহল খাটি বসিয়ে তার সম্মুখে ডালপালা ফেলে মাছ আটকানোর পন্থা অবলম্বন করছে। এ প্রক্রিয়াতে নিকটবর্তী গ্রামের মানুষকে নদীতে মাছ ধরতে আপত্তি জানাচ্ছে প্রভাবশালীরা। অগ্রহায়ন মাসে নদীর পানি কমে আসলে খাটি স্থাপনকারীরা নিজেদের দখলকৃত অংশ চুক্তিভিত্তিক জেলেদের নিকট বিক্রি করে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।
সরজমিন দেখা গেছে এ পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন অংশে তিনটি খাটি বসানো হয়েছে। ভাসান পানিতে এবার মাছ বেশি থাকায় আরো ৫/৭ টি খাটি বসানোর প্রস্তুতি চলছে। এগুলো বসানো হলে গোটা নদীটাই মাছলোভীদের অবৈধ দখলে চলে যাবে।
এ ব্যাপারে নদী নিকটবর্তী মাহতাবপুর গ্রামের জহুর উল্লা (৭০) বলেন, লাছ নদীটি আমাদের প্রত্যাহিক জীবনের অংশ ছিলো। এই নদীর মাছের উপর নির্ভরশীল আছে ৮/১০ টি গ্রামের মানুষ। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবদি যে যেভাবে পারে এই নদীতে মাছ ধরেছে। এখন জোর যার মুল্লুক তার নীতি কায়েম হওয়ায় সাধারণ মানুষ নদীর মাছ ধরা থেকে বঞ্চিত। এ নিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট আবেদন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।



মন্তব্য করুন