ফলো আপ : শ্রীমঙ্গলে সাঁওতাল পরিবার উচ্ছেদ ঘটনায় সরেজমিন পরিদর্শন

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ শ্রীমঙ্গলে সাঁওতাল পরিবারকে ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদের ঘটনায় সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি।
২৯ অক্টোবর রবিবার বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. আশেকুল হক উপজেলার রাধানগর গ্রামে বিরোধপূর্ণ ওই জমি পরিদর্শন করেন। এসময় তার সঙ্গে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়, উপজেলা ভূমি অফিসের তহশিলদার উপস্থিত ছিলেন।
২৫ অক্টোবর দুপুরে একই এলাকার আব্দুল মতিন ও তার লোকজন রতিশ সাঁওতালের বসতভিটেতে হামলা চালিয়ে পরিবারটিকে ভিটে ছাড়া করে। এনিয়ে রতিশ সাঁওতাল বাদী হয়ে এদিন রাতেই শ্রীমঙ্গল থানায় ৬ জনকে আসামী করে অভিযোগ দাখিল করে। পরবর্তীতে ২৭ অক্টোবর মামলাটি রেকর্ড করে থানা পুলিশ।
তবে আব্দুল মতিন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মতিন বলেন আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি বলেন ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি ওই জমির ভোগদখল স্বত্ব রতিশ সাঁওতালের বাবা উদয় সাঁওতালের কাছ থেকে তিনি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যে ক্রয় করেন। রতিশ জানেন এই জমির ভোগদখল স্বত্ত্ব তিনি তার বাবার কাছ থেকে কিনেছেন। কিন্তু একটি প্রভাশালী মহলের ইন্ধনে রতিশ এই জমি নিয়ে কিছুদিন পরপর হাঙ্গামা বাঁধাচ্ছে বলে মতিন দাবী করেন।
বিরোধপূর্ণ জমি পরিদর্শন শেষে উপজেলা কমিশনার ভূমি মো. আশিকুল হক বলেন, ‘এখানকার জমি নিয়ে প্রবলেম আছে। ধারনা করছি দাগ নং ৬৫। এখানকার সব জায়গাটাই ভেস্টেড প্রপাটি। এর বেশীরভাগই সাঁওতালদের দখলে। এই জায়গা নিয়ে মতিন নামে এক লোক সাঁওতাল পরিবারকে সরিয়ে জায়গাটা দখলে নিয়েছে। সাঁওতালদের একটা পরিবারটি সেখানে ঘর বাড়ি করে ছিল। দুই এক দিন আগে তাদের মারধর করে সরিয়ে দিয়েছে। আমি দেখিনি তবে এরকম শুনেছি। এখন জায়গাটি তার (মতিন) এর দখলে আছে। সেখানে সবকিছু আগের অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, ‘এখন মতিনকে খোঁজা হচ্ছে। তাকে পাওয়া গেলে কিসের ভিত্তিতে তাদেরকে ভিটেমাটি ছাড়া করেছে তার ডকুমেন্ট চাওয়া হবে। আমি আশা করছি দুই একদিনের মধ্যেই ঘটনার সমাধান করে দিতে পারবো। এর মধ্যে বড় কোন ঘটনা ঘটবে না’।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব বলেন, ‘বিষয়টি আমি শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব সেক্রেটারীর মাধ্যমে জানার পর তাৎক্ষনিকভাবে ইউএনও, এসি ল্যান্ড ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি। এসি ল্যান্ড আমাকে জানিয়েছেন জমিটি সরকারী ডিসি খতিয়ানের। এই জায়গা সাঁওতালদের দখলেই ছিল। তিনি ওসির সঙ্গে কথা বলেন। দুই এক দিনের মধ্যে এর একটি সমাধান দেবেন বলে জানান।



মন্তব্য করুন