শ্রীমঙ্গলে খাস জমি দখল নিয়ে উত্তেজনা ॥ ফের সংঘর্ষের আশংকা

November 4, 2017,

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রাম অশান্ত হয়ে উঠেছে। সরকারী খাস জমি দখল নিয়ে এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘঠেছে। পাহাড়ী এ জনপদ পর্যটনের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠায় জমির মূল্য বর্তমানে কয়েক গুনবৃদ্ধি পাওয়ায় ঐ এলাকাটি প্রভাবশালী মহলের নজরে পড়েছে। ‘‘খাস জমি দখল যার জমি তাঁর’’ এভাবে সরকারের শত শত একর খাস জমি প্রভাবশালী ভূমি খেকো ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠি জবর দখল করে বংশ পরষ্পপরায় ভোগ দখল করে আসছে। সরকারী খাস জমি উদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গাফলাতি রয়েছে এবং কখনও আর্থিক অনটনের কারণে কেউ কেউ টাকার বিনিয়মে দখল স্বত্ব পরিহার করে। স্থানীয় ভাবে এই রেওয়াজ বহুযুগ থেকে বিদ্যমান।

২৭ অক্টোবর শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবে ঐ এলাকার লেবু আনারস ব্যবসায়ী মতিন মিয়া সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগ করেন তিনি ২০১৩ সালে বালিশিরা পাহাড় মৌজার ২নং ব্লকের ৮৪নং খতিয়ানের ১৫ শতক জমি মৃত উদয় সাঁওতালের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় দখল স্বত্ব ক্রয় করেন এবং একটি প্রভাবশালী ভূমি খেকো সাঁওতাল সম্প্রাদায়ের লোকদের মানব ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে ঐ জমি থেকে তাকে উচ্ছেদ করতে চায় । অপর দিকে পরদিন মৃত উদয় সাঁওতালের ছেলে রতীশ সাঁওতাল একই ভাবে পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করে মতিন মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, মতিন মিয়াসহ তার দল বল তাদের উপর আক্রমন করে তাদের বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করে এবং মতিন মিয়া যে দলিল দেখাচ্ছেন তা জাল বলে দাবী করেন।

এ রকম অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের শনিবার ৩ নভেম্বর শুক্রবার সরজমিনে অনুসন্ধান করলে জানা যায় সাঁওতালরা সরকারী অরর্পিত খাস জমিতে বংশ পরস্পরায় ভোগ দখল করে আসলেও বিরোধপূর্ণ  ১৫ শতক ভূমিতে বসত ভিটার মত কোন ঘর পরিলক্ষিত হয়নি। সেখানে ছোট্ট একটি কুঁড়ে ঘর রয়েছে যাহাতে মানুষ বসবাস করার অযোগ্য মনে হয়েছে ও তাহাতে কোন মানুষ জনকে পাওয়া যায়নি এবং আশপাশে সরকারী খাস জমিতে আরও অনেক সাঁওতাল পরিবারের বড় বড় ঘর করে বসবাস করছেন। এ রকম একটি ঘরে প্রবেশ করেলে রতীশ সাঁওতালের স্ত্রী নিয়তি সাঁওতাল ও তাহার ছোট মেয়ে বেলা সাঁওতালের সাথে সাক্ষাত হয়। এই ঘর কি তোমার প্রশ্ন করা হলে প্রথমে হ্যাঁ বল্লেও পরক্ষণে সাংবাদিক পরিচয় পেলে ঐ ১৫ শতকের ছোট ঘর তাহার ছিল বলে জানায়, এতো ছোট ঘরে কিভাবে বসবাস কর বল্লে বৃষ্ঠি হলে আমার বাসুরের এই ঘরে এসে থাকি বলে জানায়।

 এই  ব্যাপারে আশপাশের বসবাসকারী মিনারা বেগম স্বামী জসিম উদ্দিন, মিনু বেগম স্বামী সাদেক মিয়া, সুফিয়া বেগম স্বামী নুুরুল ইসলাম, মনির মিয়া পিতা মৃত সুলতান মিয়া, হাজী মোঃ আতিকুল ইসলাম পিতা মৃত আব্দুল মালেককে জিজ্ঞাসা করা হলে তাহার জানান ঐ ছোট ঘরে কেউ বসবাস করে না, যাহাতে বাগানের উৎপাদিত ফসলাদি উত্তোলন করে রাখা হয় এবং তাদের নিকট থেকে আরও জানা যায় ঐ ১৫ শতক ভূমি মতিন মিয়া যে মূল্যে দখল সত্ত্ব কিনে ছিলেন  বর্তমান বাজার মূল্য কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়াতে একটি প্রবাভশালী ভূমি খেকো রতীশ সাঁওতালকে পিছন থেকে ইন্দন দিয়ে কলকাঠি নাড়ছে এবং প্রশাসন থেকে সহানুভূতি পাওয়ার আশায় সাঁওতালদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে তারা জানান। অবাক করার বিষয় হল সরকারী এই খাস জমি কেহই স্থায়ী বন্দোবস্ত পাওয়ার আবেদন করেন নাই। এই রকম ক্রয়-বিক্রয়ের আইনগত কোন ভিত্তি নেই। এই খাস জমি নিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে যে কোন সময় আবারও রক্তক্ষয়ী সংর্ঘশের আশংকা রয়েছে।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল সহকারী কমিশনার ভূমি  আশেকুল হক জানান তিনি বিরোধ পূর্ণ ভূমিসহ আশপাশের অন্যান্য ভূমি পরির্দশ করেছেন। ইহা ৬৫নং দাগের অর্পিত সম্পত্তি আইনগত ভাবে আমরা ইহাকে খাস খতিয়ানে নিয়ে যাব। বর্তমানে এই জমির কোন পক্ষই বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নিয়ে মতিন মিয়া ও সাঁওতালদের মধ্যে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে তা খুব শিঘ্রই শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com