আলোর মুখ দেখছেনা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম শিক্ষার্থীরা : দক্ষ শিক্ষকের অভাব

হোসাইন আহমদ॥ ‘শিখন ও শিক্ষণ’ পদ্ধতির মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এবং ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার অন্যতম এজেন্ডা বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষা দেয়া। এরই ধারাবাহিকতায় জেলার ২৯০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৩৩ টিতে সরকারি ভাবে ইতি মধ্যে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো সুফল পাচ্ছে না এজেলার হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থীরাই জানেনা তাদের প্রতিষ্টানে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর আছে বলে। আবার অনেকেই জানেনা প্রজেক্টর কি। কয়েকটি প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা বলে, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত একটিও ক্লাস প্রজেক্টরের মাধ্যমে তাদের বিদ্যালয়ে হয়নি। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তদারকির অভাবে সরকারের এ প্রজেক্টি আলোর মুখ দেখছে না বলে সচেতন অভিভাবকদের অভিযোগ।
সরেজমিন মৌলভীবাজার পৌর শহরের বড়হাট আবু শাহ দাখিল মাদরাসা’র কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, তাদের মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর নেই এবং এ পর্যন্ত প্রজেক্টরের মাধ্যমে কোন ক্লাস হয়নি। কিন্তু মাদ্রাসা সুপার প্রজেক্টরের কথা স্বীকার করে বলেন, মাঝে মধ্যে ক্লাস হয়। পৌর শহরের হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও আলী আমজাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারা বলে, স্কুলে প্রজেক্টর আছে কিন্তু ক্লাস হয়নি এবং শাহ হেলাল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একই কথা বলে।
সদর উপজেলার জগৎশী স্কুল এন্ড কলেজ, সাদু হাটি আব্দুল বারী উচ্চ বিদ্যালয়, খালিশপুর রহমানিয়া সিনিয়র আলিম মডেল মাদ্রাস, ভৈরব বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, আপ্তাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও দুঘর শ্রীমতি উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরো বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, প্রজেক্টরের মাধ্যমে তাদের বিদ্যালয়ে কোন ক্লাস হয়নি। অথচ ওই স্কুল গুলোতে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে প্রজেক্টর দিয়েছে। অযতেœ অবহেলায় প্রজেক্টর গুলো নষ্ট হচ্ছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ৫৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৪টিতে, রাজনগরে ২৫টির মধ্যে ২১টি, কুলাউড়ায় ৬০টির মধ্যে ৪৮টিতে, জুড়ীতে ২৮ মধ্যে ২১টিতে, বড়লেখায় ৫৪টির মধ্যে ৪৩টিতে, কমলগঞ্জে ৩৩টির মধ্যে ২৫টিতে এবং শ্রীমঙ্গলে ৩৬টির মধ্যে ৩১টিতে প্রজেক্টর স্থাপন করা হয়েছে। জেলায় ১৮টি বিদ্যালয় রয়েছে যেখানে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরীতে সক্ষম প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কোন শিক্ষকই নেই।
ওই উপজেলার অধিকাংশ স্কুলে খোঁজ নিয়ে এমন বেহাল অবস্থার কথা জানা যায়। জুড়ী উপজেলার নয়াবাজার আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে জানা যায়, মাদ্রাসায় জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন উপলক্ষে চলতি বছর মাত্র একদিন প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্লাস হয়েছিল। ওই উপজেলার হাজী ইনজাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে জানুয়ারীতে মাত্র একদিন ক্লাস হয়েছে। রাজনগর উপজেলার কলাগাঁও করিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়েও প্রজেক্টরের মাধ্যমে কোন ক্লাস হয়নি।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আগামীকাল আপনার সাথে কথা বলবো।



মন্তব্য করুন