ফলোআপ : প্রসূতি মায়ের মৃত্যু : ডাঃ ফারজানা হক পর্ণা ও হাসপাতালের এমডির বিরুদ্ধে মামলা

November 29, 2017,

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজারে ভুল অস্ত্রোপচারে প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় ডাঃ ফারজানা হক পর্ণা ও নুরজাহান প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোয়াহিদ আহমদকে আসামী করে মামলা দায়ের।
বুধবার ২৯ নভেম্বর নিহত প্রসূতি পপি রাণী পালের দেবর মিন্টু পাল বাদী হয়ে সিনিওর জুডিসিয়েল আদালতে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপালের চিকিৎসক ডাঃ ফারজানা হক পর্ণা ও নূরজাহান প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোয়াহিদ আহমদ সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে  মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, পপি রাণী পাল সন্তান সম্ভাব্য হওয়ায় গত ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় নূরজাহান প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হন। নিহত পপি রাণীর পরিবার সার্জারী করার জন্য ডাঃ সুধাকর কৈরীকে চাইলে হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন ডাঃ ফারজানা হক পর্ণা ভাল ডাক্তার, মহিলাদের জন্য মহিলা চিকিৎসক ভাল হবে। পপি রাণী পালকে রাত্র ৯টায় অপারেশন টিয়েটারে নেয়া হয়। সার্জারীর মাধ্যমে এক পুত্র সন্তান জন্ম হয়।

রাত সাড়ে ১০টার সময় পপি রাণী পাল এর রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছে না। ডাঃ ফারজানা হক পর্ণা ও তার সহযোগীদের নিয়ে পর পর ৩ বার অস্ত্রোপচার করেন এবং হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ পেটের ভিতরবেলুন ডুকাইয়া রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেন। বেলুনে প্রচুর রক্ত জমা ছিল। এই ভাবে ডাঃ ফারজানা হক পর্ণা এবং তাহাদের সহযোগীরা বার বার চেষ্টা করিয়া রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে না পেরে ভোর ৬টার দিকে মূমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসা উন্নত করার জন্য সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এম.এ জি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পর পপি রাণী পালের অবস্থা আরো অবনতি ঘটে। চিকিৎকরা তাকে ঢাকা পিজি হাসপাতালে প্রেরণ জন্য বলেন ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর শারিরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি দেখিয়া ঢাকায় না গিয়ে সিলেটের পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কৃত্তিম বেলুন পদ্ধতি অপরিবর্তিত রেখে ৮ বেগ রক্ত প্রদান করা হয়। কোন উন্নতি না হওয়ায় রাত ৪টায় পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পপি রাণী পাল মারা যান।
মামলায় আরোও উল্লেখ করা হয়, ১ম আসামী ডাঃ ফারজানা হক পর্ণা নিহত পপি রাণী পালকে ভুল ভাবে অস্ত্রোপচার করিয়া পেটের ভিতর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রতঙ্গ কাটিয়া তাড়াহুড়া করিয়া ডেলিভারি সম্পন্ন করেন। ২য় আসামী তোয়াহিদ আহমদ সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের সহযোগীতায় ২৪ নভেম্বর রাত ৯টা থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত তাহাদের অধীনে রাখিয়া মৃত্যু নিশ্চিতের পথে মুমূর্ষ অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেফার্ড দেখিয়ে পরিবারের সদস্য নিকট আশংকাজনক অবস্থায় হস্তান্তর করেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com