শ্রীমঙ্গলের ঘরে ঘরে বিজয় উৎসব ডা: বিনেন্দু ভৌমিকের একদিন

বিকুল চক্রবর্তী॥ ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের সোনার বাংলা। এই বাংলা সারা বিশ্বের বিষ্ময়। আর আমাদের গর্ব আমাদের বাংলাদেশ অর্জনের হাতিয়ার মুক্তিযুদ্ধ। এই মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসের প্রতিটি দিনই বাংঙ্গালী জাতির জন্য গুরুত্ববহনকারী দিন। এরই মধ্যে আমরা কয়েকটি দিবসকে অতন্ত গুরুত্বসহকারে পালন করি। একটি স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ, একটি শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস ১৪ ডিসেম্বর ও ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। এই দিনে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা পাকিস্তানী হানাদারবাহিনীকে পরাস্ত করে অর্জন করি লাল সবুজের বাংলাদেশ। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্মনেয় ৫৬ হাজার ৯৭৭ বর্গমাইলের নতুন একটি ভুখন্ড। এই রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভূখন্ডকে নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসেন এ দেশের মানুষ প্রায় প্রতিটি পরিবার। তেমনি একটি পরিবার শ্রীমঙ্গল বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রাণপুরষ ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: বিনেন্দু ভৌমিকের পরিবার। ডা: বিনেন্দু ভৌমিক প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিজয় দিবস পালন করেন তার মাকে নিয়ে। মায়ের সাথে মুক্তিযুদ্ধের গল্পকরে। মায়ের মুখ থেকে মুক্তিযুদ্ধকালীন গল্প শোনান তার সন্তানদের। শুধু গল্পনয় মায়ের স্বেত শুভ্র পোষাকে জড়িয়ে দেন লাল সবুজের একটি মাফলার /উত্তরীয়। নিজে এবং স্ত্রী সন্তানরাও পরিধান করেন লাল সবুজের আবরন। মননেও দেশ পোষাকেও দেশ যা দেশ প্রেমে উজ্জিবিত করে আমাদেরও । এখানেই ডা: বিনেন্দু ভৌমিকের বিজয় দিবস পালনের গল্প শেষ নয়। দিনের অনেকটা সময় কাটান ছিন্নমুল পথ শিশুদের নিয়ে। নিজের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে যোগদেন ছিন্নমুল শিশুদের বিজয় আনন্দে। ছিন্নমুল এ সব শিশুদের কিছু শীতকালীন কম্বল ও বিজয় দিবসে ভালো কিছু খাবারজন্য তাদের পরিচালনাকারী সংগঠনকে নগদ অর্থদিয়েও সাহায্য করেন বলে জানান ওই সংগঠনের কর্ণধার তাপস দাশ।
বিকেলে যখন রোগী দেখতে চেম্বারে বসেন তখনও তার মনে কাজ করে বিজয়ের উল্লাস। রোগীদের অনেককেই বলেন, “আজযে, বাংলাদেশের জন্মদিন আপনারা জানেন কিনা।” অনেকে উত্তর দিতে পারেন নি। তবে আজ বিজয় দিবস এটা জানেন কিনা বলার পর কেউ কেউ বলেছেন জানেন। রোগীদের সাথে শুধু বিজয় দিবসের কথা নয় প্রকৃত গরীব রোগীকে বিনামুল্যে ব্যবস্থাপত্রদেন। তার পাশাপাশি কিছু ঔষদও বিতরণ করেন।
সত্যি ডা: বিনেন্দু ভৌমিকের বিজয় দিবস পালন আমাদের জন্য অনুকরনীয়। এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ৩০ লক্ষ শহীদান এ দেশের জন্য আত্মবলি দিতেপেরেছেন। আমরা আমাদের জায়গা থেকে একটু একটু করেই দেশকে ভালোবাসলে এ দেশ হবে বিশ্বের সবচেয়ে সৌরভ ছড়ানো ফুল। যার সুবাসে মুহিত হবে সারা বিশ্ব। ডা: বিনেন্দু ভৌমিকের মতো আমরাও তাই চাই ।



মন্তব্য করুন