বিশ্ব সিলেট সম্মেলন ২০১৮ প্রস্তুতিমুলক সভায়

সাইফুল ইসলাম॥ কানাডা টরন্টোর মিজান কমপ্লেক্স মিলনায়তনে ১৩ জানুয়ারি বিশ্ব সিলেট সম্মেলন ২০১৮ এর প্রস্তুতি সভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
টরন্টোর বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের হলভর্তি নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় বসবাসরত বিশ্ব সিলেট সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির একজন নীতিনির্ধারক, বিশ্ব সিলেট সম্মেলন ২০১৭ এর কনভেনার ডা. জিয়া উদ্দিন আহমেদ।
ওইদিন বিকেল ৬ ঘটিকায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিকেল ৭:৩০ মিনিটে শুরু হওয়া সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সময় স্বল্পতার কারণে সবাইকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে পারছেন না বলে প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে বক্তাদেরকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখতে অনুরোধ করেন অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দ্বায়িত্বে থাকা সাপ্তাহিক আজকাল পত্রিকার সম্পাদক মাহবুব চৌধুরী রনি।
এসময় অতিথিদের মধ্যে থেকে বক্তব্য রাখেন, মো.নজরুল ইসলাম মিন্টু, আহাদ খন্দকার, রেশাদ চৌধুরী, মুজিবুর রহমান মুজিব, জুমেল চৌধুরী, রিমন মাহমুদ, টুনু মিয়া, ইঞ্জিনিয়ার রেজাউর রহমান, এবাদ চৌধুরী, ছাদ চৌধুরী, মিজান চৌধুরী, শামসুর রহমান খালেদ, মাসুক আহমেদ এবং মুজাহিদুল ইসলাম।
বক্তব্যে সকলেই টরন্টোতে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের বিভক্তির কারণে এই মূহুর্তে সকলের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহনের মাধ্যমে একটি সফল আয়োজন সম্ভব না হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন, তারা এই ধরনের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পুর্বে দুইটি এসোসিয়েশনের মিলে অনুষ্ঠান করার বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন।
অনুষ্টানে প্রধান অতিথি ডা. জিয়া উদ্দিন আহমেদ বিশ্ব সিলেট সম্মেলনের উদ্দ্যেশ্য এবং গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, সিলেট নামটি অসাস্প্রদায়িক, তাই সাম্প্রদায়িকভাবে জালালাবাদ মহা সম্মেলনের পরিবর্তে বিশ্ব সিলেট সম্মেলন করতে আগ্রহী বলেও তার অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি দেবব্রত দে তমাল এবং মাহবুব চৌধুরী রনিদেরকে ইতোমধ্যে এই সম্মেলন করার দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়ে গেছে বলে সকল টরন্টোবাসীদেরকে দেবব্রত দে তমাল এবং মাহবুব চৌধুরী রনি-কে সাহায্য করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথিকে প্রশ্ন করার এবং তিনি উত্তর দেওয়ার একটি অংশ থাকলেও সঞ্চালক সময় স্বল্পতার কথা বলে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করতে চাইলে হলভর্তি বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে কয়েকজনকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে, এখানেও পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন উত্তর পর্বে ডা. জিয়া বারবারই জানান, দেবব্রত দে তমাল এবং মাহবুব চৌধুরী রনি-কে এই দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এবং তিনি আশা করেন সকলে তাদেরকে সাহায্য করবেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব টরন্টোর সভাপতিকে মঞ্চে আসন না দেওয়ায়, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের উপস্থিত সাবেক চার সভাপতিদের মধ্যে কেবলমাত্র দুইজনকে মঞ্চে আসন প্রদান, অন্যান্য অনেক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিশেষ করে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা জনাব তুতিউর রহমান বারবার চেষ্ঠা করেও প্রশ্ন করার সুযোগ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে এবং প্রস্তুতি সভায় মতনৈক্য ও সভাটি পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ায় দেবব্রত দে তমাল এবং মাহবুব চৌধুরী রনির আয়োজনে বিশ্ব সিলেট সম্মেলন সফল না হয়ে আরও বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন গুণীজনরা।
টরন্টোর সিলেটবাসীদের বিরাট একটি অংশ এই সম্মেলনকে পরিহার করে জালালাবাদ মহাসম্মেলন করার অভিমত প্রকাশ করছেন বলেও ইতিমধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে।
তবে এ ব্যাপারে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টো, কানাডার সভাপতি খসরুজ্জামান চৌধুরী দুলু এবং সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ রুকনউজ্জামান এখন পর্যন্ত কোনও বক্তব্য রাখেননি। যদিও, গত ১৫ জানুয়ারি সোমবার রেডহট সিজলিং তান্দুরী রেষ্টুরেন্টে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টোর সভাপতি খসরুজ্জামান চৌধুরী দুলুর সভাপতিত্বে এসোসিয়েশনের কার্য্যনির্বাহী পরিষদের এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরিশেষে আবার এই সম্মেলনের মাধ্যমে টরন্টোয় বসবাসকারি বিভক্ত সিলেটবাসীর মধ্যে স্থায়ীভাবে বিভক্তির সৃষ্টি হয়ে না যায় এই সংঙ্কাই করছেন বিজ্ঞজনেরা।



মন্তব্য করুন