কুশিয়ারা নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পুরানো বাহন লঞ্চ-ষ্টিমার

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের গ্রাম বাংলার একমাত্র বাহন লঞ্চ-ষ্টিমার। নদীর দুই পাড়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় আগের মত আর দেখা মিলেনা এসব যানগুলোকে। এক সময়ে লঞ্চের গতিবেগে নদীর দুই পাড় দিয়ে ঢেউয়ে ঢেউয়ে দোল খেত। এখন আর সাড়া- শব্দ মিলেনা নদীর জলে। এ যেন ঘুমিয়ে পড়েছে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে।
ভারতের বরাক নদী থেকে আসা কুশিয়ারা নদী রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ,ফতেপুর ইউনিয়ন ও সদর উপজেলার মনূমূখ ইউনিয়ন হয়ে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের ভেতর প্রবেশ করে দিরাই হয়ে আজমিরীগঞ্জের দিলালপুরের নিকটে গিয়ে মেঘনা নদীতে মিলিত হয়েছে। প্রায় ১২০ মাইল দৈর্ঘ্য এ নদীতে আগে দেশীয় মাছে ভরপুর ছিল। এখন আগের সেই মাছের ও দেখা মেলেনা। শাহাপুর-২,ফতেপুর-১,ফতেপুর-২ নামের লঞ্চ দিয়ে জেলার দুই উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক যাত্রী যাতায়াত করতো পাশ্ববর্তী, শেরপুর,বালাগঞ্চ,কালারবাজার,চান্দপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ ও জকিগঞ্জ উপজেলায়। এ পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ায় প্রায় পনেরো বছর হলো। এখন লঞ্চ প্রেমী সাধারণ মানুষেরা এ পথকে বিরল ভেবে দুরের পথ থেকে লঞ্চ ভাড়া করে বিয়ে যাত্রা ও সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে দেখা যায়। সদর উপজেলার শেরপুর থেকে রাত ৪টায় ভারত সংলগ্ন জকিগঞ্জের উদ্যেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে যেত এক যুগ আগে। প্রায় ১৫-১৬ ঘন্টা চলাচলের পর যাত্রী নিয়ে জকিগঞ্জ গিয়ে পৌছাতো এসব যান। এখন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও নদী ভরাট হওয়াতে বন্ধ হয়ে গেছে এসব যানবাহন। তবে, নদী পাড়ের মানুষের যেন পুরোনো এক ঠান রয়ে গেছে এ পথ ও লঞ্চ-ষ্টিমার নিয়ে।



মন্তব্য করুন