কবুতরের দৌড় প্রতিযোগিতা ৬৭ কিলোমিটার পাড়িদেয় ১ ঘন্টা ১০ মিনিটে

বিকুল চক্রবর্তী॥ শ্রীমঙ্গলে কবুতরের দৌড় প্রতিযোগিতার ১ ঘন্টা ১০ মিনিটে ৬৭ কিলোমিটার আকাশপথ পাড়ি দিয়ে প্রথম হয়েছে বড়লেখা পৌর এলাকার দেলোয়ার হেসেনের ৬টি কবুতর।
২১ ডিসেম্বর শনিবার শনিবার সকালে বড়লেখা রেসিং পিজিয়ন ক্লাবের আয়োজনে শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠে কবুতর দৌড় এর ফাইনাল রাউন্ডে বড়লেখার সৌখিন ৬জন কবুতর পালক মোট ৫৫টি কবুতর নিয়ে অংশনেন বলে জানান, বড়লেখা বড়লেখা রেসিং পিজিয়ন ক্লাবের উপদেষ্টা মো বদরুল ইসলাম।
তিনি জানান, একাধিক রাউন্ড শেষে শনিবার অনুষ্ঠিত হয় তাদের ফাইনাল রাউন্ড। এতে অংশনেন বড়লেখার গ্রামতলা এলাকার কামরুল ইসলাম যার প্রতিযোগী কবুতরের সংখ্যা ৫টি, বড়লেখা পৌরসভা এলাকার দেলোয়ার হোসেন যার প্রতিযোগী কবুতরের সংখ্যা ২৫টি, বড়লেখা পাখিয়ালা এলাকার মাসুম আহমদ যার প্রতিযোগী কবুতরের সংখ্যা ১০টি, বড়লেখা পৌরসভা এলাকার আব্দুল আহাদ যার প্রতিযোগী কবুতরের সংখ্যা ৫টি, বড়লেখার সুজানগর এলাকার ইউনুস আহমেদের ৫টি ও বড়লেখা পাখিয়ালা এলাকার মোনায়েম খান মুন্না‘র প্রতিযোগী কবুতরের সংখ্যা ৫টি।
প্রতিযোগীতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মো. জাবেদ আহমদ, জাকির মোহাম্মদ ও মো বদরুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্র্রীমঙ্গল রেসিং পিজিয়ন ক্লাবের সভাপতি মো হাবিবুর রহমান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমেদ সবুজ, সাংগঠনিক আজহারুল ইসলাম অনিক প্রমুখ।
আয়োজক বড়লেখা রেসিং পিজিয়ন ক্লাবের সভাপতি কামরুল ইসলাম জানান, বিগত ২১ নভেম্বর মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলা থেকে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রথম রাউন্ড কাঠালতলি থেকে ৫ কিলোমিটার, ২য় রাউন্ড হাতলিয়া থেকে ১০ কিলোমিটার ৩য়টি জুড়ি থেকে ১৫ কিলোমিটার, ৪র্থ বুয়াই বাজার থেকে ২০ কিলোমিটার, ৫ম উত্তর কুলাউড়া থেকে ২৫ কিলোমিটার, ৬ষ্ঠ ব্রাহ্মনবাজার থেকে ৩০ কিলোমিটার, ৭ম গত ১২ ডিসেম্বর কটার কোনা থেকে ৪০ কিলোমিটার, ৮ম গত ১৬ ডিসেম্বর কমলগঞ্জ থেকে ৫০ কিলোমিটার ও ৯ম ও ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয় শনিবার সকালে শ্রীমঙ্গল থেকে ৬৭ কিলোমিটার দুরত্বে।
বিচারক বদরুল ইসলাম জানান, প্রতিযোগীতায় অংশনেয়া ৫৫টির মধ্যে বিকেলে পোনে ৫টা পর্যন্ত ৫১টি কবুতর প্রত্যেকের ডেরায় ফিরেছে। বিচারকরা প্রত্যেক কবুতরের পায়ে বেঁধে দেয়া গোপন কোড দেখে রাত ৮টার দিকে তা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এর আগে ভোর ৫টায় তারা কবুতর নিয়ে বড়লেখা থেকে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সকাল ৮টায় শ্রীমঙ্গল পৌছালেও ঘন কুয়াশার কারনে সকাল ১০টা ৫মিনিটে বিচারকরা তাদের গোপন কোড কবুতরের পায়ে বেঁধে খাঁচা খোলেদেন। প্রায় ১ ঘন্টা ১০ মিনিট পর সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে দেলোয়ার হোসেনের ২৫টির মধ্যে ৬টি কবুতর তার বাড়িতে পৌছায়। পরে সন্ধাপর্যন্ত ৫১টি কবুতর পৌছেছে।
আকাশ পথে ৬৭ কিলোমিটার হলেও সড়কপথে এর দুরত্ব প্রায় ৮২ কিলোমিটার। আর এই ৮২ কিলোমিটার দূরে নিয়ে এসে বাক্স বন্দি এসব কবুতর ছেড়ে দেওয়া হয় মুক্ত আকাশে। ছাড়া পেয়ে কবুতরগুলো দল বেধে ও দলের বাহিরে রওয়ানা দেয় বড়লেখার উদ্দেশ্যে। সেখানে তাদের মালিকের লোক অপেক্ষায় আছে কখন কবুতরগুলোর ফেরার অপেক্ষায়। যাদের কবুতরগুলো আগে পৌছাবে তারা কবুতরের পায়ে থাকা গোপন নাম্বার বিচারকদের জানাতে হবে। একঘন্টা ১০ মিনিট পর থেকেই বিচারকদের জানাতে শুরু করেন কবুতরের মালিকের সাহায্যকারীরা।
বিচারক মো. বদরুল ইসলাম আরো বলেন, তরুণরা যেন মাদক থেকে দূরে থাকে তাদের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দ জাগ্রত করতে মুলতো এই প্রতিযোগিতায় আয়োজন।
এই প্রতিযোগিতা থেকে তরুনরা কবুতর পালনে উৎসাহিত হবে। এতে করে লেখাপড়ার পাশাপাশি তরুণরা কবুতর লালন-পালন করে সেগুলো বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। এসব কাজের সাথে মিশে থাকলে মাদক থেকে তারা দূরে থাকবে বলে মনে করেন বিচারকরা। এদিকে এই প্রতিযোগীতার সময় ৯টি রাউন্ডে শত শত যুবসমাজ উপস্থিত ছিলেন। যা তাদের কবুতর পালনে উৎসাহ যোগীয়েছে।



মন্তব্য করুন