বিধবা নারী ধর্ষণের ঘটনার আড়াই মাসেও আসামী বিজয় ও সালমান গ্রেপ্তার হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার॥ রাজনগরে সনাতনধর্মী এক বিধবা নারী (৫০) গণ ধর্ষণের শিকারের আড়াই মাস অতিবাহিত হলেও পালিয়ে থাকা ধর্ষক বিজয় ও সালমানকে আটক করা সম্ভব হচ্ছেনা। আসামীরা পালিয়ে থেকে এভাবে পাড় পাওয়ার কারণে নিরীহ ওই পরিবারের দুশ্চিন্তা যেন কাটছেইনা। ঘটনার পর থেকেই আইনশ্ংৃখলা বাহিনীর কাছে ওই পরিবারের একমাত্র দাবী ছিল ধর্ষকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা। কিন্তু পুলিশের এহেন তৎপড়তায় যেন তারা সন্তুষ্ট হতে পারছেন না।
ওই ভয়াল রাতের ঘটনার পর ওই নারী মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে শারীরিক পরীক্ষার-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে নিজ গৃহে উঠেন। সেই ঘটনার তাড়নায় তাকে প্রতিনিয়ত খুড়ে খুড়ে খাচ্ছে এখন। প্রয়াত স্বামীর বসত ভিটায় নিজের ঠাই নিলেও লোক-লজ্জার ভয়ে আট-দশ নারীর মত সাধারণ নিয়ম-নীতি মেনে তিনি চিরচেনা ওই গ্রামটিতে চলতে পারেন না। প্রায় বয়োবৃদ্ধ বয়সে এরকম শোকাবহ দিনপাত তার পাড় হবে এমনটা ভাবেননি কখনো। তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ওই ঘটনার বিচার দেখে যেন তিনি মরতে পারেন।
সমাজের সবচেয়ে কালো ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের (৪ঠা জুন) উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের পূর্ব সুরীখাল (আমনপুর) গ্রামে। ওই ভয়াল রাতে নিজ গৃহ থেকে প্রাকৃতিক কাজে বাহিরে বের হলে আগে থেকে উৎ পেতে থাকা ওই দুই বখাটেসহ আরেক যুবক সামীলে তার মুখ চেপে ধরে পাশের কচুবনে পালাক্রমে ধর্ষন করে। ধস্তাধস্তি শেষে তিনি তাদের চিনতে পেরে নাম ধরে ধরে চিৎকার করলে এসময় তারা তাকে প্রাণে মারার চেষ্টা চালায়। তাৎক্ষনিক পাশের কুশিয়ারা নদীতে থাকা জেলেরা চেচামেচির আওয়াজ শুনে এগিয়ে এলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর থেকেই পূর্ব সুরীখাল (আমনপুর) গ্রামের সুধীর রাম বিশ্বাসের ছেলে ধর্ষক বিজয় বিশ্বাস (২৪) ও একই গ্রামের মনসুর মিয়ার ছেলে সালমান শাহ (২২) পলাতক রয়েছে। পরদিন ওই নারী বাদী হয়ে রাজনগর থানায় ওই দুই যুবকের নাম উল্যেখ করে ধর্ষনের মামলা দায়ের করেন। তবে পুলিশ বলেছে, তার সাথে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে এমনটা বলে তিনি থানায় মামলা করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজনগর থানার এসআই বিনয় ভূষন চক্রবর্তী বুধবার (১২ আগষ্ট) জানান, ওই মামলার আসামীগণ এখনো পলাতক রয়েছে। তারা মহুর্তে স্থান পরিবর্তন করে। সিলেটের গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলায় তাদের অবস্থান রয়েছে গোপন খবর পেয়ে ওই এলাকায় গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। ডাক্তারী প্রতিবেদনটি পুলিশের কাছে আসছে কিনা এমনটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডাক্তারী পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওই প্রতিবেদনটি এখনো আমাদের কাছে আসেনি। এদিকে ওই ঘটনার পর থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার স্থানীয়রা বিজয় ও সালমান’র বিরুদ্ধে আপত্তিকর অনেক কথাবার্তা তুলেছেন। এর আগেও নাকি এরা এরকম বহু কান্ডের চেষ্টা করেছে। তাদের এহেন কর্মকান্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ উঠেছে।



মন্তব্য করুন