বাংলাদেশের মেয়েরা আজ এগিয়ে, কানাডার সন্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কানাডা থেকে তানভীর ইউসুফ রনী॥ কানাডার মন্ট্রিয়লে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ফান্ড কনফারেন্সেযোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, এইডস ও দারিদ্র মুক্ত পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিকসন্মেলনের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে সুচনা বক্তব্য দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এইডস, যক্ষা ও ম্যালেরিয়া এই তিন রোগপ্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী একশটি দেশে দ্র”ত তৎপরতা চালাবে গ্লোবাল ফান্ড। ২০৩৩ সালের মধ্যে এই তিন রোগ সমূলে নির্মূল করারঅঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বিশ্ব নেতারা ফিফথ রিপ্লেনিসমেন্ট কনফারেন্স অব দ্য গ্লোবাল ফান্ড (জিএফ) এর প্রথম দিনে।সম্মেলনেরপ্রথম দিনেই ২৫০ মিলিয়ন ডলার সংগৃহিত হয়েছে দাতাদের কাছ থেকে। এসময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেনবাংলাদেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশের মেয়েরা আজ এগিয়ে। শিক্ষা, চাকুরী কিংবা ব্যাবসায় মেয়েরাও সমান অংশীদার।মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষা ব্যাবস্থা বিনামূল্যে করা হয়েছে। মহিলাদের গর্ভকালীন মৃত্যু প্রায় ৭০% রোধ করা সম্ভবহয়েছে, সেই সাথে বাল্য বিবাহের সমস্যাও রোধ করা সম্ভব হচ্ছে। মহিলাদের সাথে কোন ধরনের অত্যাচার কিংবা অবিচারেরক্ষেত্রে আমরা “জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছি। তিনি বিশ্ব দাতাদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন যে বাংলাদেশই এশিয়ায়বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ স্থান। এসময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রূডো বাংলাদেশ সহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের পাশে সবসময়থাকার ঘোষনা দেন। এসময় তিনি বলেন যে আমরা যদি একসাথে সবাই একই স্বার্থে কাজ করতে পারি তাহলে বিশ্বকে দেখানোসম্ভব আমরা কি করতে পারি। বাংলাদেশ ছাড়াও এই সন্মেলনে সুইডেন, আইভরিকোস্ট, মালি ও সেনেগালের রাস্ট্র প্রধানগণঅংশগ্রহন করেন। বিশ্ব নেতারাও তাঁদের দেশের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক উপস্থিত দাতাগোষ্ঠী ও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।উল্লেখ্য কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বাবা কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিঁয়ের এলিয়ট ট্রুডো বাংলাদেশেরস্বাধীনতা সংগ্রামের সময় তাঁর সার্বিক সহযোগিতার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তারই কৃতজ্ঞতা সরূপ সন্মেলনের প্রথমদিনের শেষপর্যায়ে বাংলাদেশের জনগনের পক্ষে মরনোত্তর স্বাধীনতা স্মারক কানাডার প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন শেখ হাসিনা। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো তাঁর বাবাকে এধরনের অকৃত্তিম সন্মান প্রদর্শনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদজানান। এসময় তাঁরা একটি সংক্ষিপ্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনায়ও মিলিত হন। কানাডায় পলাতক বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী নূরচৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত দেয়ার ব্যাপারেও এসময় উভয় দেশের প্রধানদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
একই দিনে ‘রিমোভিং বেরিয়ার্স টু হেলথ থ্রো এম্পাওয়ারিং উইমেন অ্যান্ড গার্লস অ্যান্ড রিচিং দ্য মোস্ট মার্জিনালাইজড’ শীর্ষকপ্যানেল আলোচনা-১ এবং ‘এনগেজিং অ্যান্ড মোবিলাইজিং ইয়ুথ টু মিট দ্য সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস’ শীর্ষক প্যানেলআলোচনা-২-এ অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে যোগ দেবেন তিনি। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কানাডা আওয়ামীলীগ আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় অংশগ্রহন করবেন। ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর১টা ৪০ মিনিটে (মন্ট্রিয়ল সময়) এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের উদ্দেশে মন্ট্রিয়ল ত্যাগ করে একই দিনে নিউইয়র্কেপৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জাতিসংঘের ৭১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেবেন তিনি। নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে বেশকয়েকটি কর্মসূচি সম্পন্ন করে ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।



মন্তব্য করুন