মৌলভীবাজারে বিপন্ন প্রজাতির ১৩ শকুনের মৃত্যু, ময়না তদন্তের কাজ সিলেটে চলছে

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের বুড়িকোনা গ্রামে ক্ষেতের জমিতে শিয়াল মারার বিষটোপ খেয়ে ১৩টি বিপন্ন প্রজাতির শকুন মারা যায়। শকুনের সাথে মারা যায় ১টি শিয়াল ও ৪টি কুকুর।
শকুনের মরদেহের কঙ্কাল, পালক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা বনবিভাগকে খবর দেয়। খবর পেয়ে শুকুন গুলো অর্ধগলিত অবস্থায় ২৩ মার্চ দুপুরে উদ্ধার করে সিলেট ভ্যাটেনারী হাসপাতালে পাঠানো হয়। ধারনা করা হচ্ছে ১০ থেকে ১২ দিন পূর্বে শকুনগুলো মারা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান গেল বেশ কয়েক দিন থেকে ওই এলাকায় পাগলা কুকুর ও শিয়ালের উৎপাত বেড়ে ছিল। অনেক ছাগল, হাঁস ও মোরগ খেয়েছে শিয়াল। তাতে অতিষ্ঠ হয়ে ওই এলাকার কে বা কারা একটি মৃত ছাগলের ওপর কিটনাশক প্রয়োগ করে থাকতে পারে।
ওই ছাগলের মাংস খেয়ে শকুনসহ অন্যান্য প্রাণিগুলো মারা যেতে পারে বলে তাদের ধারণা। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের শুমারিতে বাংলাদেশে ২৬০ টি শকুনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তাদের অবস্থান সিলেট ও সুন্দরবন এলাকায় ছিল।
শনিবার বিকেলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ মো: রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মৃত শকুনগুলো উদ্বার করে তা ময়নাতদন্তের জন্য সিলেটে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট আসতে আরও ২-৩দিন সময় লাগবে। রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তবে ধারণা করা হচ্ছে বিষটোপ দিয়ে শকুন ও প্রাণিগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। রহস্য উদঘাটনে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি ঘটন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ চৌধুরী জানান ওই ঘটনায় বনবিভাগ সন্দেহভাজন ২ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন বাপার মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়ক আ.স.ম ছালেহ সুহেল বলেন, বিপন্ন প্রজাতির শকুনগুলো এভাবে হত্যা করা হলো তা মেনে নিতে পারছিনা। বনবিভাগ,বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ কোনো ভাবেই এর দায়ভার এড়াতে পারেন না। তারা আগে থেকে ওখানকার মানুষকে সচেতন করলে এমনটি হতনা। তিনি এঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।




মন্তব্য করুন