কাগাবালার ঘরছাড়া সেই নবদম্পতি অবশেষে পুলিশের প্রচেষ্টায় ফিরলেন বাড়ি

স্টাফ রিপোর্টার॥ পুলিশের প্রচেষ্টায় সমাজপতিদের বাধায় ঘরছাড়া সেই নবদম্পতি অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন। ওই নবদম্পতিকে অবশেষে মেনে নিয়েছেনও সমাজপতিরা।
বুধবার ২৯ মার্চ বিকেলে জেলা পুলিশের একটি দল তাদের বাড়ি পৌঁছে দেয়। এর আগে ওই নবদম্পতি মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেন। পুলিশ সুপার সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ছেলে মৎসজীবী পরিবারের হওয়ায় তাদেরকে ঘরে তুলতে পারছিলেন না। সেই বিয়েকে অস্বীকার করেন স্থানীয় সমাজপতি ও গ্রামের মোড়লরা। বিষয়টি নিয়ে গত ২৮ মার্চ ‘সমাজপতিদের না জানিয়ে বিয়ে করায় ঘরছাড়া নবদম্পতি’ শিরোনামে পাতাকুঁড়িসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এ ঘটনা সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আপার কাগাবালা ইউনিয়নের উত্তর কাগাবালা গ্রামের ইমন মিয়ার সাথে গত ১৯ মার্চ সাতবাক গ্রামের পলি আক্তারের বিয়ে হয়। ধর্মীয় বিধান মেনে চার লাখ টাকা কাবিন নির্ধারণ করে নিকাহনামা রেজিস্টারের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়।
বিয়ের কথা এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর বাধা হয়ে দাঁড়ান স্থানীয় মুরব্বিরা। তাদের দাবি, প্রথা অনুযায়ী মৎস্যজীবী পরিবারের সঙ্গে বাইরের কারো বিয়ে হয় না। গত ২৫ মার্চ পলি আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে পোস্ট দেওয়ার পর আলোচনায় আসে বিষয়টি।
বাড়ি ফিরে নবদম্পতি পলি আক্তার ও ইমন মিয়া বলেন, সমাজপতিদের ভয়ে আমরা আত্মগোপনে ছিলাম। আমরা বাড়ি ফিরেছি। সমাজ আমাদেরকে মেনে নিয়েছে। আমি পুলিশ প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাদের কারণে আমরা নতুন জীবন ফিরে পেলাম।
আপার কাগাবলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমন মোস্তফা বলেন, নবদম্পতি তাদের বাড়ি ফিরেছেন। গ্রামের সব পক্ষকে নিয়ে মডেল থানায় বসে বিষয়টি সমাধান করা হয়।
মৌলভীবাজারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, সমাজের সবাই তাদের মেনে নিয়েছেন। বিষয়টির একটি সুন্দর সমাধান হয়েছে। যার কারণে নবদম্পতি বাড়ি ফিরতে পেরেছেন। পুলিশের একটি টিম তাদেরকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে।



মন্তব্য করুন