মৌলভীবাজারে পবিত্র ঈদ উল ফিতরের ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম॥ মৌলভীবাজারে দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনা শেষে সব ভেদাভেদ ভুলে সৌহার্দ আর সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে পালিত হয়েছে মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর।
এবছর জেলার সবচেয়ে বৃহৎ ও নান্দনিকতায় পরিপূর্ণ হযরত সৈয়দ শাহ্ মোস্তফা (র:) পৌর ঈদগাহ মাঠে সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার মুসল্লী ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ঈদগাহটিতে মোট তিনটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পুরো ঈদগাহ মাঠের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে মূল সড়ক আলোকসজ্জা করা হয় পৌরসভার পক্ষ থেকে। চোখ ধাঁধানো রঙিন আলোকসজ্জা দৃষ্টি কারে পথচারীসহ মুসল্লীদের। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঈদগাহের দৃষ্টিনন্দন আলোর ঝলকানি দেখতে শতশত মানুষ ভিড় জমান শাহমোস্তফা সড়কে।
শনিবার ২২ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৬ টায় অনুষ্ঠিত হয় বিশাল এই ঈদগাহের প্রথম ঈদ জামাত। এতে জামাতে ইমামতি করেন, মৌলভীবাজার টাউন দেওয়ানী জামে মসজিদ এর পেশ ইমাম মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহিত উদ্দীন।
দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে ৭ টায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন, শহরের পশ্চিমবাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহিবুর রহমান। এর পর সর্বশেষ তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮ টায়। ওই জামাতে ইমাম হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন, শহরের প্রাচীন মাদ্রাসা দারুল উলুম জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম (কালাপুরী)।
প্রতিটি জামাতেই বিপূল সংখ্যক মুসল্লী অংশ নেন। মাঠের ভিতর পূর্ণ হয়ে মাঠের বাহিরের বড় অংশসহ পুরো শাহমোস্তফা সড়কজুড়ে খোলা আকাশের নিচে জায়নামাজ নিয়ে নামাজ পড়তে দেখা যায় মুসল্লীদের। প্রথম জামাতের নামাজ শুরুর আগে বক্তব্য রাখেন জামাতে উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল হক, পৌর মেয়র ফয়জুর রহমান।
নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। বালা মুসিবত থেকে দেশকে সুরক্ষা চাওয়া হয় আল্লাহর কাছে।প্রথম জামাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ শহরের বিশিষ্টজনেরাও অংশ নেন।
নামাজ পরবর্তী খুৎবা ও মোনাজাত শেষে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে শিশু, যুবক, বৃদ্ধাসহ নানা বয়সীরা একে অপরের সাথে খোলাখুলি ও আনন্দে মেতে উঠেন। বুকের সাথে বুক মিলিয়ে হৃদয়ের উষ্ণতায় প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হন সবাই।
এছাড়াও শহরতলীর পুলিশ লাইনস মাঠে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়াসহ জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর বাহিরে জেলার রাজনগর, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল,কুলাউড়া , বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলাসহ ৭টি উপজেলা শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল ফিতরের জামাত। সব মিলিয়ে জেলায় শতাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।



মন্তব্য করুন