সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে ৪৪টি পদের মধ্যে ৩৩টি পদই শূন্য, শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যাহত

July 19, 2023,

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে ৪৪টি শিক্ষক পদের মধ্যে ৩৩টি পদই শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।

জানা যায়, মৌলভীবাজার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠানে সাধারণ পাঠ্যসূচির সঙ্গে কারিগরি বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করা হয়।

এছাড়াও রয়েছে স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন কোর্স। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমান ছাত্রসংখ্যা ৫৯৭। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষকের পদ রয়েছে ৪৪টি।

এর মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। ৩৩টি পদই শূন্য। শুধু শিক্ষকের পদ শূণ্য তা কিন্তু না। একই অবস্থা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও।

কর্মচারীর পদ ২৬টি। শূন্য রয়েছে ১৭টি। দীর্ঘদিন ধরেই এই শূন্যতা বিরাজ করছে। জোড়াতালি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদানের কার্যক্রম চলছে।

স্বল্পমেয়াদি কোর্সের মধ্যে আছে চার মাসের হাউসকিপিং। যার দুই মাস একাডেমিক ক্লাস হয়। বাকি দুই মাস বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া পেশাদার লাইসেন্সের জন্য চার মাসের মোটর ড্রাইভিং কোর্স এবং তিন মাস ও ছয় মাসের কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন কোর্স আছে।

শিক্ষক-কর্মচারীর ঘাটতির কারণে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শ্রেণি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পাদন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

বিষযটি নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুব্রত শংকর বড়ুয়া বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকট প্রকট। সঠিকভাবে পাঠদান করতে পারছি না।’

স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, অধ্যক্ষের পদ থেকেই শূন্যতার শুরু। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে এখন দায়িত্ব পালন করছেন অটোমোবাইল বিভাগের একজন চিফ ইনস্ট্রাক্টর। ইলেকট্রিক্যাল বিভাগে ছয়টি পদ আছে।

চিফ ইনস্ট্রাক্টর, ইনস্ট্রাক্টর (দুই) ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (তিন)। কর্মরত আছেন শুধু একজন জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর।পাঁচটি পদই শূন্য। ওয়েল্ডিং বিভাগে পদ আছে আটটি।

চিফ ইনস্ট্রাক্টর (দুই), ইনস্ট্রাক্টর (দুই) ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (চার)।কর্মরত আছেন একজন জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর। সাতটি পদই শূন্য।

অটোমোবাইল বিভাগে আটটি পদ। চিফ ইনস্ট্রাক্টর (দুই), ইনস্ট্রাক্টর (দুই) ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (চার)। এর মধ্যে একজন চিফ ইনস্ট্রাক্টর পদে থাকলেও তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্বে।

এ ছাড়া একজন জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর কর্মরত আছেন। ছয়টি পদই শূন্য। মেশিনিস্ট বিভাগে পদ আছে সাতটি। চিফ ইনস্ট্রাক্টর (দুই), ইনস্ট্রাক্টর (এক) ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (চার)। একজন জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর কর্মরত আছেন। ছয়টি পদ শূন্য।

সাধারণ বিষয়ে পদ আছে ১৪টি। ইনস্ট্রাক্টর (বাংলা) দুটি, ইনস্ট্রাক্টর (ইংরেজি) তিনটি, ইনস্ট্রাক্টর (পদার্থ) তিনটি, ইনস্ট্রাক্টর (রসায়ন) দুটি, ইনস্ট্রাক্টর (গণিত) তিনটি এবং ধর্মের শিক্ষক (ইসলাম ধর্ম) একটি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন বাংলার দুজন, ইংরেজির দুজন, রসায়নের একজন এবং গণিতের একজন ইনস্ট্রাক্টর।

ইংরেজির দুজনের মধ্যে একজন ইনস্ট্রাক্টর প্রেষণে আছেন রাজনগর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। আটটি পদ শূন্য।

প্র্যাকটিক্যালের জন্য ইলেকট্রিক্যাল বিভাগে দুজন, ওয়েল্ডিং বিভাগে দুজন, অটোমোবাইল বিভাগে দুজন ও মেশিনিস্ট বিভাগে একজন ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরের পদ আছে।

ইলেকট্রিক্যাল বিভাগে একজন ও মেশিনিস্ট বিভাগে একজন করে কর্মরত আছেন। এর মধ্যে আবার ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরের অন্যত্র বদলির আদেশ হয়ে গেছে।

ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরের মধ্যে পাঁচটি পদই শূন্য আছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্তরের কর্মচারী পদসংখ্যা ২৬। কর্মরত আছেন নয়জন। ১৭টি পদই শূন্য।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com